তুরস্কে আয়োজিত বিশ্বখ্যাত রোবটিকস প্রতিযোগিতা “ওয়ার্ল্ড রোবট অলিম্পিয়াড ২০২৪”-এ বাংলাদেশের দুটি দল অসাধারণ সাফল্য দেখিয়ে ব্রোঞ্জ পদক অর্জন করেছে। বিজয়ী দুটি দল হলো:
- “সাইবার স্কোয়াড”, যার নেতৃত্ব দিয়েছেন বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আব্দুর রউফ পাবলিক কলেজের শিক্ষার্থী আফিয়া হুমায়রা।
- “চেইঞ্জ মেকার্স ২০২৪”, নেতৃত্বে ছিলেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সাদিয়া আনজুম পুষ্প।
২৮ নভেম্বর তুরস্কের ইজমিরে শুরু হওয়া এই প্রতিযোগিতায় ৮৭টি দেশ থেকে অংশ নেয় মোট ৫৬০টি রোবট দল। তিন দিনব্যাপী এই আয়োজন বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ৩১৫০ প্রতিনিধি এবং ৫৭টি দেশের ১৯৭ বিচারককে একত্রিত করেছে।
বাংলাদেশের মোট ১২ জন প্রতিযোগী অংশ নেন ফিউচার ইঞ্জিনিয়ার্স, ফিউচার ইনোভেটরস, এবং রোবো স্পোর্টস বিভাগে। বাংলাদেশ থেকে প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী উল্লেখযোগ্য দলগুলো হলো:
- মায়ের দোয়া_রোবোটিক্স: সদস্যরা ছিলেন ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজের রাকিবুল ইসলাম, আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজের আনাস বিন আজিম, এবং রাজউক উত্তরা মডেল কলেজের এস এম মহিউদ্দিন সামি।
- সাইবার স্কোয়াড: আফিয়া হুমায়রার সঙ্গে ছিলেন ফেনী গার্লস ক্যাডেট কলেজের ওমেরা ফিদান এবং এস ও এস হারম্যান মেইনার কলেজের নুজহাত জাহান।
- চেইঞ্জ মেকার্স ২০২৪: শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাদিয়া আনজুম পুষ্প, ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজের রাগিব ইয়াসার রহমান এবং সরকারি মদন মোহন কলেজের বি এম হামীম।
- টিম সাইবারওয়েভ: স্যার জন উইলসন স্কুলের ওয়ামিয়া নায়ার শেহরিজাদ, ডিপিএস এসটিএস স্কুলের জুনাইরাহ মাহতালত এবং আশালীনা যোহারিন।
দলের সদস্যরা প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ শেষে ২ ডিসেম্বর দেশে ফিরে এসেছেন। দলের উপদলনেতা মাহেরুল আজম কোরেশী আশা প্রকাশ করেন, এই অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত এবং সৃজনশীল কাজে আরও উৎসাহিত করবে।
এবারের প্রতিযোগিতায় আন্তর্জাতিক পর্যায়ের বিচারক হিসেবে কাজ করেছেন সাজ্জাদ ইসলাম, রেদওয়ান ফেরদৌস এবং সিহাব সারার আহমেদ। বাংলাদেশ ওপেন সোর্স নেটওয়ার্ক (বিডিওএসএন) এই আয়োজনের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছ
বাংলাদেশ ২০২০ সালে ওয়ার্ল্ড রোবট অলিম্পিয়াডের সদস্য হয়। তবে সেবছর কোনো প্রতিযোগিতা হয়নি।
- ২০২১: অনলাইনে অংশগ্রহণ করে বাংলাদেশ দশম স্থান অর্জন করে।
- ২০২২: সরাসরি প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে অষ্টম স্থান এবং ব্রোঞ্জ পদক অর্জন করে।
- ২০২৩: পঞ্চম স্থান অর্জন করে।
জাতীয় পর্বে বিজয়ীদের থেকে চূড়ান্তভাবে বাছাই করা দলগুলোর পারফরম্যান্সে এবারও সাফল্যের ধারা বজায় রেখেছে বাংলাদেশ।
বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের এ ধরনের সফলতা ভবিষ্যতে আরও বড় মঞ্চে দেশের প্রতিনিধিত্ব করার পথ সুগম করবে। এছাড়া আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশকে প্রযুক্তির দিক থেকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার অনুপ্রেরণা জোগাবে।


