ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেছেন, যতদিন বাংলাদেশে রাজনৈতিক ও আমলাতান্ত্রিক সংস্কৃতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে না, ততদিন দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) বা অন্য কোনো দুর্নীতি বিরোধী প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম ফলপ্রসূ হবে না।
রোববার (৮ ডিসেম্বর), জাতীয় সংসদ ভবনের সামনে আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী দিবস-২০২৪ উপলক্ষে আয়োজিত মানববন্ধনে তিনি বলেন, “দলীয়করণ, অভ্যন্তরীণ দুর্নীতি এবং অনিয়মের কারণে দুদক দুর্বল প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে।” এ অবস্থায় দুদকের কার্যক্রম পুনর্গঠনে সাড়াশি অভিযানের পরামর্শ দেন তিনি।
ইফতেখারুজ্জামান আরও বলেন, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব এবং আমলাতন্ত্রকে দুর্নীতিবিরোধী চেতনায় উদ্বুদ্ধ করতে হবে। এর মাধ্যমে দেশের প্রশাসন এবং রাজনীতিতে নৈতিকতার ভিত্তি গড়ে তোলা সম্ভব।
ইফতেখারুজ্জামান জানান, বর্তমান সরকার প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক কাঠামোতে সংস্কার কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলন এবং দুদকের সংস্কার এসব উদ্যোগের অংশ। তিনি বলেন, “আমরা এমন একটি অবকাঠামো তৈরি করতে চাই, যেখানে ভবিষ্যতে ক্ষমতায় আসা সরকারগুলোও দুর্নীতির বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থানে থাকতে বাধ্য হবে।”
টিআইবি দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ১৪ দফা সুপারিশ উত্থাপন করেছে, যার মধ্যে রয়েছে:
১.বিচার বিভাগের জন্য পৃথক সচিবালয় গঠন এবং রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বন্ধ।
২.জনবান্ধব পুলিশ বাহিনী গঠনে ব্যবস্থাপনা কাঠামো ঢেলে সাজানো।
৩.উচ্চপর্যায়ের দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ ও বিচারহীনতার সংস্কৃতি বন্ধ।
৪.প্রকল্প পরিচালনায় স্বজনপ্রীতি ও রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত করা।
টিআইবির উপ-সমন্বয়ক জাফর সাদিক জানান, বাংলাদেশ থেকে প্রতি বছর গড়ে ১০-১২ বিলিয়ন ডলার পাচার হয়। তিনি বলেন, “বিগত সরকারের আমলে প্রকল্পের কৃত্রিম খরচ বৃদ্ধি, কেনাকাটায় প্রতিযোগিতাহীন দরপত্র এবং পছন্দের লোককে কাজ দেওয়ার মতো অনিয়ম ছিল নিত্যদিনের ঘটনা।”
তিনি আরও উল্লেখ করেন, রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে প্রকল্প পরিচালক নিয়োগ থেকে শুরু করে চুক্তির ক্ষেত্রে অতিমূল্যায়ন ও ঘুষ গ্রহণ একটি নিয়মিত চর্চায় পরিণত হয়েছিল। বিচারহীনতার কারণে এই দুর্নীতি আরও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পেয়েছে।
টিআইবির এ আহ্বান এবং সুপারিশগুলো বাস্তবায়ন হলে দেশের প্রশাসন ও রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। দুর্নীতির বিরুদ্ধে টেকসই লড়াইয়ের জন্য এই উদ্যোগগুলোর বাস্তবায়ন এখন সময়ের দাবি।


