আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে পদোন্নতি থেকে বঞ্চিত হয়ে অবসরে যাওয়া কর্মকর্তাদের জন্য ন্যায্য সুযোগ-সুবিধা ও ক্ষতিপূরণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এই উদ্দেশ্যে আবেদন সংগ্রহ করে একটি উচ্চ পর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়, যা আজ প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে তাদের প্রতিবেদন জমা দিয়েছে।
মঙ্গলবার (১০ ডিসেম্বর), পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের নিয়ে গঠিত কমিটি তাদের চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন, রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় উপস্থাপন করে। কমিটির প্রধান জাকির আহমেদ খান এবং অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত থেকে প্রয়োজনীয় সুপারিশসহ প্রতিবেদনটি জমা দেন। অনুষ্ঠানে প্রধান উপদেষ্টার মুখ্য সচিব এম সিরাজ উদ্দিন মিয়াও উপস্থিত ছিলেন।
প্রধান উপদেষ্টা কমিটিকে নির্ধারিত সময়ের আগেই প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ জানান। প্রতিবেদনে ৭৫৪ জন বঞ্চিত কর্মকর্তার মধ্যে ১১৯ জনকে সচিব, ৪১ জনকে সচিব পদমর্যাদায় গ্রেড-১ পদ এবং ৫২৮ জনকে অতিরিক্ত সচিব পদমর্যাদা দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।
২০০৯ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে চাকরিতে বঞ্চনার শিকার এবং একই সময়ে অবসরে যাওয়া কর্মকর্তাদের সমস্যার সমাধানে গত ১৬ সেপ্টেম্বর পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়। সাবেক অর্থ সচিব জাকির আহমেদ খানকে কমিটির আহ্বায়ক করা হয়। কমিটিতে অর্থ, মন্ত্রিপরিষদ, জনপ্রশাসন এবং আইন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা সদস্য হিসেবে কাজ করেছেন।
তিন মাস ধরে কমিটি ১৯টি বৈঠক করে। আবেদনকারীদের পারিবারিক, আর্থিক ও সামাজিক ক্ষতি পর্যালোচনা করে বিভিন্ন সংস্থার মাধ্যমে রিপোর্ট সংগ্রহ করা হয়। রিপোর্ট নেতিবাচক না হওয়ায়, কমিটি কয়েকটি সুপারিশ করেছে , সুপারিশগুলো হল-
১. যাদের চাকরির মেয়াদ বেশি আছে, তাদের পর্যায়ক্রমে সচিব করা যেতে পারে।
২. যাদের চাকরির মেয়াদ কম, তাদের সরকারি সংস্থাগুলোর চুক্তিভিত্তিক পদে নিয়োগ দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
৩. গ্রেড-১ পদমর্যাদায় সরকারি দপ্তরে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের প্রস্তাবও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।


