27.7 C
Dhaka
Thursday, June 18, 2026

রাত হতেই পদ্মা নদীতে অবৈধ বালু উত্তোলনের হিড়িক, হুমকিতে বাঁধ ও বসতবাড়ি

advertisment
- Advertisement -spot_img

শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার পদ্মা নদীতে চলছে অবাধে বালু উত্তোলন। এর ফলে নদী ভাঙনের কবলে পড়ে বিলীন হয়েছে তিন শতাধিক স্থাপনা, হুমকির মুখে পড়েছে নড়িয়ার ডান তীর রক্ষা বাঁধ। স্থানীয়দের অভিযোগ, বালু লুটের কারণে পদ্মা সেতুর জাজিরা প্রান্তের নাওডোবা জিরো পয়েন্টের বেড়িবাঁধেও ভাঙন দেখা দিয়েছে। নদীগর্ভে চলে গেছে পাইনপারা আহামেদ মাঝি কান্দি গ্রামের মসজিদ, মাদরাসা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও অসংখ্য বসতভিটা।

নড়িয়া উপজেলার কেদারপুর, সাধুর বাজার, সুরেশ্বর, চরআত্রা, ভেদরগঞ্জের কাচিকাটা ইউনিয়ন এবং জাজিরার কুন্ডেরচর, বাবু চর ও সিডাচর এলাকায় প্রতিদিনই প্রভাবশালী একটি মহল কাটার (খননযন্ত্র) দিয়ে বালু তুলে বলগেট জাহাজে পাচার করছে। অভিযোগ রয়েছে, প্রতিটি কাটার প্রতি রাতে ৭৫ হাজার থেকে ১ লাখ ফুট বালু উত্তোলন করে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী তারেক হাসান জানান, পদ্মার ভাঙন রোধে নড়িয়া এলাকায় ডান তীর রক্ষা বাঁধ নির্মাণ করা হয়েছে। আরও দুটি বাঁধ নির্মাণের কাজ চলছে। তবে এসব স্থানে বালু উত্তোলন চালু থাকলে বাঁধগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। তিনি জানান, অপরিকল্পিত বালু উত্তোলনের কারণে নদীর গতিপথ পরিবর্তন হতে পারে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শরীয়তপুর জেলা পদ্মা ও মেঘনা নদীর বেষ্টনীতে অবস্থিত হওয়ায় দীর্ঘদিন ধরেই ভাঙন সমস্যায় জর্জরিত। বিভিন্ন সময়ে নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে হাজারো বসতবাড়ি, ফসলি জমি ও সরকারি স্থাপনা। ভাঙন রোধে পদ্মার ডান তীর রক্ষা বাঁধ প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে সরকার। তবে এসব বাঁধের কাছ থেকেই প্রতিদিন প্রায় ৫০টি খননযন্ত্র দিয়ে বালু উত্তোলন অব্যাহত রয়েছে।

অবৈধভাবে উত্তোলিত বালু বলগেট জাহাজে করে আশপাশের জেলায় বিক্রি করা হচ্ছে। জমি ভরাটের কাজে এই বালুর চাহিদা বেশি থাকায় প্রভাবশালী মহল কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। উপজেলা প্রশাসন কয়েক দফা অভিযান চালিয়েও এই বালু উত্তোলন বন্ধ করতে পারছে না।

এদিকে, নৌ পুলিশের দুইটি ফাঁড়ির মধ্যে একটি নড়িয়া উপজেলার সুরেশ্বর ফাঁড়ি এবং অন্যটি জাজিরার মাঝিরঘাটে অবস্থিত। ফাঁড়িগুলোর কাছাকাছি এলাকায় অবাধে বালু উত্তোলন চললেও পুলিশের ভূমিকা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন উঠেছে। নৌ-পুলিশ সুপার (চাঁদপুর অঞ্চল) সৈয়দ মুশফিকুর রহমান বলেন, রাতের আধারে বালু উত্তোলন চালানো হয়। আমরা প্রায়ই অভিযান পরিচালনা করি, তবে জনবল সংকটের কারণে পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ সম্ভব হচ্ছে না।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শংকর চন্দ্র বৈদ্য জানান, পদ্মা নদীতে দুই দফা অভিযানে একটি কাটারসহ ৮ জনকে আটক করা হয়েছে। এর আগেও ১৭ জন বালু দস্যুকে আটক করে ১০ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। তিনি বলেন, “পদ্মা নদীর বাঁধ রক্ষার স্বার্থে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে।”

সর্বশেষ সংবাদ
- Advertisement -spot_img
আরও নিউজ