সময় টেলিভিশনের পাঁচ সাংবাদিকের চাকরিচ্যুতির ঘটনায় নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগকে ভিত্তিহীন ও ষড়যন্ত্রমূলক বলে দাবি করেছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক হাসনাত আব্দুল্লাহ। শুক্রবার (২৭ ডিসেম্বর) রাতে তিনি তার ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে একটি বিবৃতি দিয়ে এ কথা জানান।
হাসনাত আব্দুল্লাহ অভিযোগ করেন, সময় টিভির অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বে তাকে পরিকল্পিতভাবে জড়ানো হয়েছে। একই সঙ্গে সিটি গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. হাসানের বিরুদ্ধে তার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার অভিযোগ করেন। তিনি চাকরিচ্যুত সাংবাদিকদের পুনর্বহাল এবং ষড়যন্ত্রের পেছনে জড়িতদের চিহ্নিত করতে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
বিবৃতিতে তিনি উল্লেখ করেন, “সময় টেলিভিশনের সাংবাদিকদের চাকরিচ্যুতির ঘটনায় আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। এটি আমার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার একটি ষড়যন্ত্র। আমি কোনো সাংবাদিকের তালিকা দিইনি এবং চাকরিচ্যুত সাংবাদিকদের চিনি না।”
তিনি বলেন, “গত ১৭ ডিসেম্বর আমি সরল বিশ্বাসে সিটি গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. হাসানের সঙ্গে দেখা করি। আমাদের মধ্যে ৩০ মিনিটের একটি বৈঠক হয়, যেখানে আমরা সঠিক সাংবাদিকতা এবং গঠনমূলক সমালোচনার আহ্বান জানিয়েছিলাম। তবে কোনো সাংবাদিকের নাম উল্লেখ করিনি বা চাকরিচ্যুত করার জন্য চাপ দিইনি।”
ফরাসি সংবাদ সংস্থা এএফপি এবং বিবিসি বাংলার প্রতিবেদনে বলা হয়, হাসনাত আব্দুল্লাহ ও তার দল সময় টেলিভিশনের বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান সিটি গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে দেখা করে ১০ জন সাংবাদিকের তালিকা দেয়। তাদের অভিযোগ, এই তালিকায় থাকা পাঁচজনকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে।
এই প্রতিবেদন সম্পর্কে হাসনাত বলেন, “বিবিসি এবং এএফপি আমার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের পক্ষে কোনো প্রমাণ হাজির করতে পারেনি। এটি একটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মিথ্যাচার।”
বিবৃতিতে তিনি সময় টেলিভিশনের পাঁচ সাংবাদিককে পুনর্বহালের দাবি জানান। পাশাপাশি সিটি গ্রুপের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব এবং তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে জড়িতদের চিহ্নিত করতে একটি স্বাধীন তদন্ত কমিটি গঠনের আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, “আমি কখনো গণমাধ্যমের স্বাধীনতার বিরুদ্ধে কাজ করিনি। বরং গণমাধ্যমের স্বাধীনতা রক্ষায় সবসময় সোচ্চার ছিলাম এবং ভবিষ্যতেও থাকব। তবে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন অভিযোগের মাধ্যমে আমার অবস্থান ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা বন্ধ করা উচিত।”
হাসনাত আব্দুল্লাহ সিটি গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের বিরুদ্ধে তার ভাবমূর্তি নষ্ট করার অভিযোগ তোলেন এবং এ বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান। তিনি বলেন, “আমি গণমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য কাজ করে যাব।”


