ঢাকা থেকে রাজশাহীগামী একটি চলন্ত বাসে ডাকাতি ও নারী যাত্রীদের শ্লীলতাহানির ঘটনায় জড়িতরা লুট করা মোবাইল ফোন বিক্রি করে গাঁজা কিনত। পুলিশের তদন্তে মাদক ব্যবসায়ীর সূত্র ধরেই তাদের সন্ধান মেলে। পরে অভিযান চালিয়ে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ডাকাত চক্রের সদস্যরা মাদকাসক্ত এবং অর্থের জন্য নিয়মিত সাভার-আশুলিয়া এলাকায় ডাকাতি, ছিনতাইসহ নানা অপরাধমূলক কাজ করে থাকে।
গত ১৭ ফেব্রুয়ারি (সোমবার) রাত ১১টায় গাবতলী থেকে ছেড়ে যাওয়া ইউনিক রোড রয়েলস (আমরি ট্রাভেলস) নামের বাসটিতে মধ্যরাতে অস্ত্রের মুখে যাত্রীদের জিম্মি করে ডাকাতরা। তারা তিন ঘণ্টা ধরে যাত্রীদের নগদ টাকা, মোবাইল ও মূল্যবান সামগ্রী লুট করে এবং নারী যাত্রীদের শ্লীলতাহানি করে। ঘটনার তিন দিন পর এক যাত্রী মির্জাপুর থানায় মামলা করেন।
জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) উপপরিদর্শক (এসআই) আহসানুজ্জামান জানান, তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে ডাকাত দলের অবস্থান শনাক্ত করা হয়। সাভারের এক মাদক ব্যবসায়ী, যার কাছ থেকে ডাকাতরা লুট করা মোবাইলের বিনিময়ে গাঁজা কিনত, তাকে ধরার পরই মূল অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন:
- শহিদুল ইসলাম ওরফে মুহিত (মানিকগঞ্জ)
- সবুজ মোল্লা (শরীয়তপুর)
- শরীফুজ্জামান (সাভার)
পুলিশ জানায়, শহিদুল ইসলামের নামে ইতোমধ্যে বাস ডাকাতি ও মাদকের পাঁচটি মামলা রয়েছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঁচ দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, সবুজ ও শরীফুজ্জামান আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন।
এ ঘটনায় জড়িত অন্য তিনজনের পরিচয় নিশ্চিত হয়েছে এবং তাদের গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান চলছে।
তদন্তকারী কর্মকর্তা আহসানুজ্জামান বলেন, “নারী যাত্রীদের শ্লীলতাহানি করা হলেও ধর্ষণের কোনো ঘটনা ঘটেনি। তবে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার জন্য আমাদের অভিযান অব্যাহত আছে।”


