27.8 C
Dhaka
Sunday, June 21, 2026

ভারতের ওয়াকফ সংশোধনী নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ বিএনপির, আইন পুনর্বিবেচনার আহ্বান

advertisment
- Advertisement -spot_img

ভারতে সদ্য পাস হওয়া ‘মুসলিম ওয়াক্ফ (সংশোধন) বিল ২০২৫’ নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। দলটির মতে, এ আইনের মাধ্যমে ভারতের সংখ্যালঘু মুসলমানদের ধর্মীয় অধিকার খর্বের চেষ্টা করা হয়েছে।

রোববার রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে দলের পক্ষ থেকে এই অবস্থান তুলে ধরেন জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহ উদ্দিন আহমদ।

তিনি বলেন, “ভারতের পার্লামেন্টে সম্প্রতি যে ওয়াক্ফ সংশোধনী বিলটি পাস হয়েছে, তার ধারা বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, এটি মুসলমানদের ধর্মীয় স্বাধীনতা ও অধিকার লঙ্ঘনের শামিল। মুসলিম সম্প্রদায় এবং বিভিন্ন সংগঠন এটিকে অসাংবিধানিক ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলেই দেখছে।”

সালাহ উদ্দিন জানান, ইসলামী দানের একটি পুরোনো রেওয়াজ ‘ওয়াক্ফ’, যার মাধ্যমে ধর্মীয় ও জনহিতকর উদ্দেশ্যে স্থায়ীভাবে সম্পত্তি দান করা হয়। এসব সম্পত্তি বিক্রয় বা হস্তান্তরযোগ্য নয়, অথচ নতুন আইনটি এ ব্যবস্থার মূল চেতনার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

তিনি আরও বলেন, “ভারতের ২০ কোটির বেশি মুসলমানদের জন্য প্রাসঙ্গিক ওয়াক্ফ বোর্ডগুলো পরিচালিত হয়ে আসছে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সেবায়। মসজিদ, মাদ্রাসা, কবরস্থান, এতিমখানা—সবই এই সম্পত্তির মাধ্যমে পরিচালিত হয়। কিন্তু এই নতুন আইনের মাধ্যমে এসব প্রতিষ্ঠানের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়তে পারে।”

নতুন আইনে অমুসলিমদের ওয়াকফ বোর্ডে অন্তর্ভুক্তির বিষয়টি নিয়ে তিনি বলেন, “এটি মুসলমানদের সাংবিধানিক ও ধর্মীয় অধিকারে সরাসরি হস্তক্ষেপ। অন্য কোনো ধর্মীয় বোর্ডে ভিন্নধর্মীদের এমন অন্তর্ভুক্তির নজির নেই।”

সালাহ উদ্দিন বলেন, “অল ইন্ডিয়া মুসলিম পার্সোনাল ল বোর্ডসহ মুসলিম সংগঠনগুলোও এই আইনকে ইসলামী মূল্যবোধ ও ওয়াকফ ব্যবস্থার পরিপন্থী বলে মন্তব্য করেছে। তাদের মতে, বোর্ড পরিচালনায় কেবল মুসলমানদেরই থাকতে হবে।”

বিএনপির এই নেতা আশাবাদ ব্যক্ত করেন, “ভারত একটি বৃহৎ গণতান্ত্রিক দেশ। সে দেশের সরকার আশা করি ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের অধিকার রক্ষায় দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করবে এবং এই বিতর্কিত আইন পুনর্বিবেচনা করবে। এতে করে আঞ্চলিক সম্প্রীতি রক্ষা পাবে।”

সর্বশেষ সংবাদ
- Advertisement -spot_img
আরও নিউজ