27.8 C
Dhaka
Sunday, June 21, 2026

গাজায় গণহত্যার প্রতিবাদে রাজধানীজুড়ে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন, ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন

advertisment
- Advertisement -spot_img

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলের অব্যাহত হামলা ও বর্বর গণহত্যার প্রতিবাদে সোমবার (৭ এপ্রিল) ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে ওঠে শিক্ষার্থীরা। ‘দ্য ওয়ার্ল্ড স্টপস ফর গাজা’ কর্মসূচির প্রতি সংহতি জানিয়ে শিক্ষার্থীরা ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জন করে রাজপথে নেমে আসে।

সকাল থেকেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, বুয়েট, ব্র্যাক, ইডেন, নর্থসাউথ, ইস্ট-ওয়েস্টসহ দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা নিজ নিজ ক্যাম্পাস ও আশপাশের সড়কে অবস্থান নেয়। ঢাবির রাজু ভাস্কর্য, টিএসসি, নিউমার্কেট, বসুন্ধরা, সায়েন্সল্যাব, গুলশান, মিরপুর-১২, উত্তরা, বারিধারাসহ শহরের গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় একযোগে বিক্ষোভ হয়।

মার্কিন দূতাবাসের সামনেও শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ অবস্থান নিয়ে ইসরায়েলবিরোধী নানা স্লোগানে মুখর করে তোলে পরিবেশ। ‘ফিলিস্তিনের স্বাধীনতা চাই’, ‘ইসরায়েলের বিচার চাই’, ‘ইসরায়েলি পণ্য বর্জন করো’—এমন দাবিতে ফুঁসে ওঠে ছাত্রসমাজ।

বুয়েটসহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরাও মানববন্ধনে অংশ নেন। তারা বলেন, গাজায় যা ঘটছে তা যুদ্ধাপরাধ এবং এর আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি হওয়া উচিত। বাংলাদেশের পাশাপাশি মুসলিম বিশ্বকে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানান তারা।

এক শিক্ষার্থী বলেন, “এই বর্বরতা আর সহ্য করা যায় না। গাজার মানুষের প্রতি আমাদের নৈতিক দায়িত্ববোধ থেকে আমরা রাজপথে এসেছি। শিক্ষা কার্যক্রমের চেয়েও এখন মানবতার প্রশ্ন বড়।”

বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা, ভাটারা, গুলশানসহ বিভিন্ন এলাকায় শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি সাধারণ জনগণও বিক্ষোভে অংশ নেন। অনেকের হাতে ছিল ফিলিস্তিনের পতাকা, কেউবা প্ল্যাকার্ডে লিখেছেন ‘গাজায় রক্ত ঝরছে, বিশ্ব নীরব কেন?’

এমনকি ছোট ছোট শিশুরাও এদিন প্রতিবাদে সামিল হয়। স্লোগানে স্লোগানে মুখর শিশুরা জানায়, “স্বাধীন ফিলিস্তিন চাই, শিশু হত্যার বিচার চাই।”

ঢাবি ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এই কর্মসূচির প্রতি আনুষ্ঠানিকভাবে সমর্থন জানায়। বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে রাজধানীর কূটনৈতিক এলাকায় অতিরিক্ত নিরাপত্তা জোরদার করা হয়।

প্রসঙ্গত, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় গাজায় এখন পর্যন্ত প্রাণ হারিয়েছে প্রায় ৫০ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি। আহত হয়েছেন আরও লাখের ওপর মানুষ। জাতিসংঘ জানিয়েছে, গাজার প্রায় ৭০ শতাংশ ভবন সম্পূর্ণ ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই বর্বরতার বিরুদ্ধে বিশ্বব্যাপী প্রতিবাদের অংশ হিসেবেই আজকের কর্মসূচি পালিত হয়।

সর্বশেষ সংবাদ
- Advertisement -spot_img
আরও নিউজ