27.5 C
Dhaka
Sunday, June 21, 2026

মাকে অপমানের প্রতিশোধ নিতে স্ত্রীকে হত্যা করেন মসজিদের ইমাম!

advertisment
- Advertisement -spot_img

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে শাহিদা বেগম (৬৫) নামে এক নারীর লাশ পাওয়া যায় বাড়ির সেফটিক ট্যাংকে। গত ৩ ফেব্রুয়ারি উপজেলার ঘোলপাশা ইউনিয়নের ধনুসাড়া গ্রামে এই হত্যাকাণ্ড ঘটে। তিন মাস পর এই রহস্য উদ্ঘাটন করেছে চৌদ্দগ্রাম থানা পুলিশ।

তদন্তে উঠে এসেছে, পারিবারিক কলহ ও মায়ের সেবা-যত্নে অবহেলার অভিযোগে মসজিদের ইমাম স্বামী আব্দুল মমিন বালিশ চাপা দিয়ে স্ত্রীকে শ্বাসরোধে হত্যা করেন। বৃহস্পতিবার (২৪ এপ্রিল) সকালে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে বিষয়টি নিশ্চিত করেন চৌদ্দগ্রাম থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হিলাল উদ্দিন আহমেদ।

হত্যার ঘটনায় নিহতের ছেলে মো. মাছুম বিল্লাহ থানায় অজ্ঞাত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় প্রধান সাক্ষী করা হয় নিহতের স্বামী আব্দুল মমিনকে। প্রাথমিকভাবে হত্যার ক্লু না থাকলেও তদন্ত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক হেশাম উদ্দিনের জিজ্ঞাসাবাদে বেরিয়ে আসে হত্যার মূল রহস্য।

ওসি হিলাল উদ্দিন জানান, বিভ্রান্তিকর তথ্য দেওয়ায় পুলিশের সন্দেহ তৈরি হয় মমিনের ওপর। পরে ২৭ মার্চ তাকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং আদালতের নির্দেশে দুইদিনের রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। একপর্যায়ে আব্দুল মমিন হত্যার দায় স্বীকার করেন।

জবানবন্দিতে মমিন বলেন, তার মায়ের বয়স প্রায় ১৩০ বছর। তিনি চলাফেরা করতে পারতেন না, তবে সুস্থ ছিলেন। মায়ের সেবা না করায় স্ত্রীকে নিয়ে প্রায়ই বিবাদ হতো। ঘটনার রাতে স্ত্রীকে প্রশ্ন করলে তিনি গালিগালাজ শুরু করেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে মমিন পাশের বালিশ দিয়ে মুখ চেপে ধরে স্ত্রীকে হত্যা করেন।

পরে রাতেই স্ত্রী শাহিদার মরদেহ সেপটিক ট্যাংকে ফেলে ঢাকনা লাগিয়ে দেন। হত্যার আলামত গোপন করতে গোসল করে পেটিকোটটি বালতিতে রেখে মসজিদে চলে যান এবং পরে ছেলেকে ফোন করে জানান—“তোমার মাকে পাওয়া যাচ্ছে না।”

সকাল সাড়ে ৭টার দিকে স্থানীয়রা শাহিদার মরদেহ সেপটিক ট্যাংকে দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেয়।
তদন্ত কর্মকর্তা হেশাম উদ্দিন জানান, আদালতে দেওয়া ১৬৪ ধারার জবানবন্দিতে মমিন হত্যার ঘটনা স্বীকার করেছেন এবং তিনি একাই এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন। মামলার চার্জশিট দ্রুতই আদালতে দাখিল করা হবে বলে তিনি জানান।

সর্বশেষ সংবাদ
- Advertisement -spot_img
আরও নিউজ