20 C
Dhaka
Friday, January 16, 2026

যুক্ত হওয়ার পরে বুঝতে পারি, ওই প্ল্যাটফর্ম খুবই অগোছালো : উমামা ফাতেমা

advertisment
- Advertisement -spot_img

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক উমামা ফাতেমা বলেছেন, “আমার প্রত্যাশা ছিল, সেখানে (বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে) গেলে অনেক জরুরি প্রশ্ন তুলতে পারব, নারীদের ভালোভাবে প্রতিনিধিত্ব করতে পারব। কিন্তু যুক্ত হওয়ার পরে আমি বুঝতে পারি, ওই প্ল্যাটফর্মটি খুবই অগোছালো ও ঝামেলাপূর্ণভাবে চলছে। কেন্দ্রীয় কমিটি গঠন করা হলেও সংগঠনটি কার্যত দু-তিনজন নেতার কথায় চলছিল, অন্যদের কথা বলার সুযোগ ছিল না।”

সম্প্রতি একটি গণমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এসব মন্তব্য করেন তিনি।

উমামা ফাতেমা বলেন, “গণ-অভ্যুত্থানের অল্প কিছুদিন পরই আমি ছাত্র ফেডারেশন ছেড়ে দিই। তখন আমার মনে হয়েছিল, দেশকে নতুন করে গড়ে তোলার সময় এসেছে। আমি নির্দিষ্ট কোনো সংগঠনের বদলে দেশের জন্য কাজ করতে চেয়েছিলাম। অভ্যুত্থানের কিছুদিন পরেই বন্যা হয়েছিল, আমরা ত্রাণের অর্থ সংগ্রহ ও বিতরণের কাজ করি। মানুষের কাছ থেকে তখন বিপুল সাড়া পেয়েছিলাম। সেই অভিজ্ঞতায় সাধারণ মানুষের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার ইচ্ছা জাগে। তখনই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন আমার সঙ্গে যোগাযোগ করে, দায়িত্ব দেওয়ার প্রস্তাব দেয় এবং স্বাধীনভাবে কাজ করার আশ্বাস দেয়। আমি বড় পরিসরে দেশের জন্য কাজ করার দায়বদ্ধতা থেকেই যুক্ত হয়েছিলাম।”

তিনি আরও বলেন, “আন্দোলন-অভ্যুত্থানের সময় অনেক ভালো ছেলেমেয়ে এই আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত হয়েছিল। কিন্তু ৫ আগস্টের পর তাদের যুক্ত থাকার সুযোগ কমে আসে। অন্যদিকে সুবিধাবাদীদের ভিড় বাড়তে থাকে, কয়েকজন নেতার ইচ্ছেমতো একের পর এক কমিটি গঠিত হচ্ছিল। আমি এসব দেখে হতাশ হই। বিভিন্ন বিষয়ে প্রশ্ন তুলতে চেয়েছিলাম, কিন্তু তখন সে রকম পরিবেশ ছিল না। নেতারা বিপ্লবী কথাবার্তা বললেও, বাস্তবে সংগঠনের ভেতরে ছিল ক্ষমতার দ্বন্দ্ব। মনে হচ্ছিল, কোনো একটি ক্ষমতার অংশের সঙ্গে সম্পর্ক না থাকলে সেখানে টিকে থাকা কঠিন।”

তিনি জানান, “বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ছিল আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের প্ল্যাটফর্ম, তাই সেখান থেকে সরে আসার সিদ্ধান্ত সহজ ছিল না। আমি বন্ধু ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নিই। আমি চাইনি, কোনো বিভক্তি হোক বা পারস্পরিক সম্পর্ক নষ্ট হোক। তাই আনুষ্ঠানিকভাবে সম্পর্কচ্ছেদে কিছুটা সময় নিয়েছি।”

স্বপ্নভঙ্গ প্রসঙ্গে উমামা বলেন, “আমি যে ধরনের পরিবর্তন চেয়েছিলাম, তা এই প্ল্যাটফর্মের মধ্য দিয়ে সম্ভব হয়নি। বরং অনেকে এই প্ল্যাটফর্মকে নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করেছে। তাই বলতেই হয়, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কথা বললে স্বপ্নভঙ্গের প্রসঙ্গ আসবেই। তবে আমি অভ্যুত্থানকারী জনগণকে নিয়ে আশাবাদী। তারাই ভবিষ্যতে দেশের ইতিবাচক পরিবর্তনের মূল চালিকাশক্তি হবে বলে আমি বিশ্বাস করি।”

‘জুলাই ঘোষণাপত্র’ নিয়ে মতামত জানাতে গিয়ে উমামা ফাতেমা বলেন, “আমি মনে করি, এনসিপি বা কোনো একটি রাজনৈতিক দলের এককভাবে ‘জুলাই ঘোষণাপত্র’ দেওয়ার এখতিয়ার নেই। এটা ঠিক, এনসিপির কিছু নেতা অভ্যুত্থানের সময় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। তবে তাঁরা অভ্যুত্থানের একমাত্র স্টেকহোল্ডার নন। ফেব্রুয়ারি মাসের আগ পর্যন্ত এনসিপি নামে কোনো দলের অস্তিত্বই ছিল না। তাহলে কেন জুলাই অভ্যুত্থানকে এনসিপির সঙ্গে একাকার করে দেখা হবে?”

তিনি আরও বলেন, “কোনো দল যদি এককভাবে জুলাই অভ্যুত্থানের কৃতিত্ব দাবি করতে চায়, সেটি হবে ঠিক যেমন মুক্তিযুদ্ধকে এককভাবে আওয়ামী লীগের দখলে রাখার চেষ্টা—যেখানে সারা দেশের জনগণের অংশগ্রহণ ছিল। একইভাবে জুলাই অভ্যুত্থানেও সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ ছিল ব্যাপক। তাই একটি দল এককভাবে কৃতিত্ব নিতে পারে না।”

উমামা ফাতেমার মতে, “জুলাই অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষাকে সামনে রেখে রাজনৈতিক দলগুলো তাদের নিজস্ব রাজনীতি করতেই পারে। কিন্তু তারা এককভাবে ‘জুলাই ঘোষণাপত্র’ দিতে পারে না। বর্তমানে এই ঘোষণাপত্র দেওয়ার একমাত্র এখতিয়ার রয়েছে অন্তর্বর্তী সরকারের। রাজনৈতিক দলগুলো চাইলে সরকারকে চাপ দিতে পারে, অথবা সরকারের সঙ্গে সমঝোতার মাধ্যমে দ্রুত ঘোষণাপত্র দেওয়ার দাবি জানাতে পারে।”

সর্বশেষ সংবাদ
- Advertisement -spot_img
আরও নিউজ