জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের অন্যতম সমন্বয়ক ও গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) শাখার সভাপতি আব্দুল কাদেরকে শিবির তাদের নিজের প্রতিনিধি হিসেবেই কাউন্ট করত বলে জানিয়েছেন শাখা শিবিরের সাবেক সভাপতি ও ইউনাইটেড পিপলস বাংলাদেশের (আপ) প্রধান সমন্বয়কারী রাফে সালমান রিফাত।
সোমবার (৪ আগস্ট) রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লিখেছেন,
“শিবির তাকে ইনস্টিটিউট ফ্যাকাল্টির সাথী এবং জনশক্তি হিসেবে কাউন্ট করত। যদিও সে ক্যাম্পাসে ছাত্রশক্তির অ্যাক্টিভিটিতেই বেশি জড়িত ছিল।”
রিফাত লেখেন,
“২০২৩ সালের অক্টোবর মাসে গণতান্ত্রিক ছাত্রশক্তি গঠিত হয়। আমি তখন ঢাবির শিবির সভাপতি, সাদিক কায়েম সেক্রেটারি। ছাত্রশক্তি আত্মপ্রকাশের কিছুদিন আগে আখতার দেখা করতে চায়। বলে, ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগ ছাড়া আর কারোর রাজনীতি নেই, নতুন সংগঠন নিয়ে কাজ করতে চায়।”
তিনি বলেন,
“আমাদের সঙ্গে দেখা করতে আসে আখতার, নাহিদ, মাহফুজ, আসিফ আর আহনাফ সাঈদ। রেস্টুরেন্টে প্রায় ৩ ঘণ্টা আলাপ হয়। প্রায় সব প্রশ্নের উত্তর দেয় মাহফুজ, মাঝেমধ্যে নাহিদ। আখতার চুপ, আসিফ-আহনাফ নীরব দর্শক। বুঝলাম মাহফুজ মূল আইডিওলগ, আখতার শুধু সামনের ফেস।”
রিফাত আরও লেখেন,
“ছাত্রশিবির ছিল সাংগঠনিকভাবে সবচেয়ে রেজিমেন্টেড। ক্যাম্পাসে শৃঙ্খলার সঙ্গে কর্মসূচি বাস্তবায়নে শিবিরের সহযোগিতা ওপেন সিক্রেট ছিল। অর্থ, লজিস্টিক শুধু শিবির না, আরও অনেকেই দিত। ২০১৮ সালের কোটা আন্দোলনের সময়ও শিবিরের তৎকালীন ছাত্র আন্দোলন সম্পাদক শামীম রেজায়ীসহ অনেকের ব্রেইন হিসেবে ভূমিকা ছিল।”
তিনি বলেন,
“আত্মপ্রকাশের পর আখতার আহ্বায়ক, নাহিদ সদস্য সচিব, আসিফ ঢাবির আহ্বায়ক হয়। কিন্তু কয়েকদিনের মধ্যে মাহফুজ স্ট্যাটাস দিয়ে বিরোধে জড়ায়। এরপর বিভিন্ন কর্মসূচিতে নানা টানাপোড়েন আসে। রমজান, কোটা আন্দোলন, ফিলিস্তিন মিছিল, ইফতার বিতরণ, সব জায়গাতেই সমন্বয় ছিল—প্রকাশ্য বা প্রচ্ছন্নভাবে।”
রিফাত বলেন,
“জুলাইয়ে সব সংগঠনকে ছাপিয়ে ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন’ ব্যানারে একত্র হয় সবাই। এখানে হায়ারার্কি ছিল না, একক নেতৃত্ব ছিল না। কাদের শিবিরের প্রতিনিধি হিসেবে ছিল, যদিও ছাত্রশক্তির অ্যাক্টিভিটিতে সে বেশি জড়িত ছিল।”
তিনি বলেন,
“ছাত্রশক্তি তাদের ৯ মাসের যাত্রায় শিবিরের সঙ্গে কখনও প্রত্যক্ষ, কখনও প্রচ্ছন্নভাবে চলেছে। সম্পর্কের জোয়ার-ভাটা থাকলেও কখনও তা শত্রুতায় রূপ নেয়নি। আজ অনেকেই পলিটিক্স শিখে গেছে, নিজেদের সাবেক নেতাকেও দোষারোপ করছে। একসময় যাদের সাপোর্টে বেঁচেছিল, আজ তাদেরকেই কাদা ছোড়ার লক্ষ্য বানিয়ে ফেলেছে।”


