16 C
Dhaka
Friday, January 16, 2026

চাকসু নির্বাচনে শেষে দুই প্যানেলের যত অভিযোগ

advertisment
- Advertisement -spot_img

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (চাকসু), হল ও হোস্টেল সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শেষে অনিয়ম, পক্ষপাত ও প্রশাসনের ‘একপেশে আচরণের’ অভিযোগ তুলেছে দুটি প্যানেল। তারা নির্বাচনের ঘটনায় তদন্ত ও বিচারের দাবি জানিয়েছে।

বুধবার (১৩ অক্টোবর) সন্ধ্যায় পৃথক সংবাদ সম্মেলনে বামপন্থী শিক্ষার্থীদের প্যানেল ‘বৈচিত্র্যের ঐক্য’ এবং সুফিবাদী আদর্শে বিশ্বাসী ‘অহিংস শিক্ষার্থী ঐক্য’ এসব অভিযোগ তুলে ধরে।

বৈচিত্র্যের ঐক্য প্যানেলের ভিপি প্রার্থী ধ্রুব বড়ুয়া বলেন, “৩৫ বছর পর এই বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকসু নির্বাচন হলো, যা একটি ঐতিহাসিক দিন হতে পারত। কিন্তু দুপুরের পর থেকে বেশ কিছু ঘটনা এই নির্বাচনকে কলঙ্কিত করেছে।”

তিনি অভিযোগ করেন, ভোটের সময় ব্যবহৃত কালি অমোচনীয় ছিল না— কিছুক্ষণ পর তা মুছে যাচ্ছিল। এছাড়া অনেক কেন্দ্রে ভোটারদের স্বাক্ষর নেওয়া হয়নি, যার ফলে একই ব্যক্তি একাধিকবার ভোট দিতে পেরেছেন। “নির্বাচন কমিশন একটি বিশেষ গোষ্ঠীকে সুবিধা দিতে চেয়েছে,” বলেন তিনি।

ধ্রুব আরও জানান, ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের ৩৫৩ নম্বর কক্ষে একই আইডি দিয়ে দুবার ভোট দেওয়া হয়েছে। নতুন কলা ভবনের একটি কক্ষে সাংবাদিকদের ঢুকতে দেওয়া হয়নি। একই ভবনের এলইডি ডিসপ্লে ভাঙচুর এবং ভোট গণনার সময় পোলিং এজেন্টদের হুমকিও দেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে, ‘অহিংস শিক্ষার্থী ঐক্য’ প্যানেলের ভিপি প্রার্থী ফরহাদুল ইসলাম প্রশাসনের একপেশে আচরণ ও অনিয়মের আটটি অভিযোগ তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “নির্বাচন কমিশনের কাছে আমরা বিষয়গুলো জানিয়েছিলাম, কিন্তু তারা কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।”

তার অভিযোগ, আইটি ভবনের ২১৪ নম্বর কক্ষে ২০টি স্বাক্ষরবিহীন ব্যালট বাক্সে ফেলা হয়েছে। অমোচনীয় কালি পানি দিলেই মুছে যাচ্ছে— যা প্রশাসনের গাফিলতি। অনেক ভোটকেন্দ্রে ভোটারদের স্বাক্ষরও নেওয়া হয়নি।

ফরহাদুল বলেন, “নির্দিষ্ট প্যানেলের লিফলেট ভোটকেন্দ্রের সামনে রেখে ভোটারদের প্রভাবিত করা হয়েছে। অনেক প্রার্থী ভোটকেন্দ্রের কাছেই গিয়ে ভোটারদের কাছে ব্যালট নম্বর লিখে দিয়েছেন। আমাদের পর্যবেক্ষকদের কোনো কার্ড দেওয়া হয়নি, অথচ প্রশাসনের কিছু কর্মকর্তা বিশেষ পক্ষের হয়ে কাজ করেছেন।”

তিনি আরও অভিযোগ করেন, বহিরাগতরা ক্যাম্পাসে ঢুকে নির্বাচন প্রভাবিত করেছে, কিন্তু প্রশাসন সেটি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হয়েছে। “৩৫ বছর পর চাকসু নির্বাচন নতুন প্রজন্মের আশা জাগিয়েছিল, কিন্তু প্রশাসনের ব্যর্থতা ও অদূরদর্শিতার কারণে শিক্ষার্থীরা সেই আনন্দ হারিয়েছে,” বলেন তিনি।

দীর্ঘ ৩৫ বছর পর চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকসু, হল ও হোস্টেল সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত একটানা ভোটগ্রহণ চলে ওএমআর ব্যালট পদ্ধতিতে।

এবার চাকসুর ২৬টি পদের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন ৪১৫ জন প্রার্থী, আর হল ও হোস্টেল সংসদের ২৪টি পদের জন্য লড়েন ৪৯৩ জন। মোট ভোটার সংখ্যা ছিল ২৭ হাজার ৫১৬ জন

সর্বশেষ সংবাদ
- Advertisement -spot_img
আরও নিউজ