রংপুর, ২৭ অক্টোবর:
বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদুল ইসলাম বলেছেন, ১৯৭১ সালে দেশের মানুষ রক্ত ও জীবন উৎসর্গ করেছিল মুক্তির আশায়। কিন্তু স্বাধীনতার পর আওয়ামী লীগ একাত্তরকে নিজেদের “ব্যবসায়িক ইন্ডাস্ট্রিতে” পরিণত করেছে।
সোমবার (২৭ অক্টোবর) দুপুরে রংপুরের কারমাইকেল কলেজ ক্যাম্পাসে নবীনবরণ ও ডিপার্টমেন্ট প্লেসধারী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
জাহিদুল ইসলাম বলেন, “একাত্তরের পর প্রত্যাশা ছিল পাকিস্তানের বৈষম্য থেকে মুক্তি পাবো, বাংলাদেশ হবে সমৃদ্ধ। কিন্তু যারা রাষ্ট্র পরিচালনা করেছে, তারা পাকিস্তানের চেয়েও বেশি স্বৈরাচারী হয়ে উঠেছিল। তবে ২৪-এর গণঅভ্যুত্থানের পর আর কেউ স্বৈরাচার হতে পারবে না বলে আমি বিশ্বাস করি।”
তিনি আরও বলেন, “জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর আমাদের দুটি প্রধান দাবি ছিল—জুলাই গণহত্যার বিচার ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের সংস্কার। সংস্কার পুরোপুরি হয়নি, তবে আরও উন্নত পরিবেশে নির্বাচন হওয়া উচিত।”
জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি প্রসঙ্গে শিবির সভাপতি বলেন, “বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে ক্ষমতায় আসা শাসকরা ফ্যাসিবাদীভাবে দেশ চালিয়েছে। তাই জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি থাকা প্রয়োজন। আইনি কাঠামো ছাড়া সনদ বাস্তবায়ন অনিশ্চিত থাকবে।”
আগামী নির্বাচনে ছাত্রশিবির প্রশাসনকে সহযোগিতা করবে কি না—এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, “প্রশাসন যদি আনুষ্ঠানিকভাবে সহযোগিতা চায়, আমরা সামর্থ্য অনুযায়ী সহযোগিতা করব।”
ছাত্র সংসদ নির্বাচন প্রসঙ্গে জাহিদুল ইসলাম বলেন, “অতীতের ফ্যাসিবাদী রাজনীতি শেষ করে সুষ্ঠু ছাত্র রাজনীতি প্রতিষ্ঠার দাবিতে শিবির আন্দোলন করেছে। ইতিমধ্যে জগন্নাথ, বেগম রোকেয়া, হাজী দানেশ ও শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রশাসন ছাত্র সংসদ নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আশা করি দ্রুত তারিখ ও ইস্তেহার ঘোষণা হবে এবং দেশের সব ক্যাম্পাসে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।”
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কারমাইকেল কলেজ শিবিরের সভাপতি আবু সুফিয়ান। বক্তব্য দেন জামায়াতে ইসলামী কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য মাহবুবার রহমান বেলাল, মহানগর শিবির সভাপতি নুরুল হুদাসহ অন্যরা।


