প্রশ্নফাঁস ও জালিয়াতির অভিযোগে ৪৬তম বিসিএসের প্রিলিমিনারি পরীক্ষা কেন বাতিল করা হবে না, তা জানতে চেয়ে হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একইসঙ্গে, এই অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করে ৬০ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
সোমবার (১৮ নভেম্বর), বিচারপতি ফারাহ মাহবুব ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। রিটের পক্ষে শুনানি করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট শাহ নাভিলা কাশফি।
গত ২৪ অক্টোবর, পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ এনে ৪৬তম বিসিএসের প্রিলিমিনারি পরীক্ষা বাতিলের দাবিতে হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হয়। পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ২৪ জন শিক্ষার্থীর পক্ষে অ্যাডভোকেট শাহ নাভিলা কাশফি এই রিট করেন। রিটে মন্ত্রিপরিষদ সচিব, পিএসসি চেয়ারম্যান, জনপ্রশাসন সচিবসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিবাদী করা হয়।
এর আগে, গত ২৬ সেপ্টেম্বর ২৪ জন পরীক্ষার্থীর পক্ষে একটি লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়েছিল। এতে ৪৬তম বিসিএস প্রিলিমিনারি পরীক্ষা বাতিলের দাবি জানানো হয়। নোটিশে বলা হয়েছিল, ১৫ দিনের মধ্যে উপযুক্ত পদক্ষেপ না নিলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। লিগ্যাল নোটিশের কোনো উত্তর না পাওয়ায় হাইকোর্টে রিট করা হয়।
রিটের ভিত্তিতে গণমাধ্যমে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে বলা হয়, পিএসসির অফিস সহায়ক সাজেদুল ইসলাম পরীক্ষার প্রশ্ন সরবরাহের মাধ্যমে অন্তত ২০ লাখ টাকা নিয়েছেন। তিনি ১৭ জন পরীক্ষার্থীর কাছে প্রশ্ন সরবরাহ করেন, যার মধ্যে ১৩ জন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন।
সাজেদুল ইসলামসহ ১৭ জনকে গত ৭ জুলাই গ্রেপ্তার করে সিআইডি। সাজেদুলসহ ছয়জন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। তারা স্বীকার করেছেন কীভাবে প্রশ্ন সংগ্রহ ও সরবরাহ করা হয় এবং পরীক্ষার্থীদের মুখস্থ করানো হয়। এছাড়াও, পিএসসির বর্তমান ও সাবেক কর্মকর্তাদেরও নজরদারিতে রাখা হয়েছে।
৪৬তম বিসিএসের প্রিলিমিনারি পরীক্ষার ফল গত ৯ মে প্রকাশিত হয়। এতে ১০,৬৩৮ জন প্রার্থী লিখিত পরীক্ষার জন্য নির্বাচিত হন।
এখন প্রশ্নফাঁস ও জালিয়াতির অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সবাই অপেক্ষা করছেন।


