মিয়ানমারের আরাকান রাজ্যে সংঘাত থামলেই বাংলাদেশে আশ্রিত রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফেরার পরিস্থিতি সৃষ্টি হবে বলে মন্তব্য করেছেন জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক খাদ্য নিরাপত্তা বিষয়ক সংস্থা ওয়ার্ল্ড ফুড প্রোগ্রাম (ডব্লিউএফপি)-এর মিয়ানমার শাখার পরিচালক মাইকেল ডানফোর্ড।
সম্প্রতি জাপানি সংবাদমাধ্যম এনএইচকে-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “(বাংলাদেশে আশ্রিত) রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফিরে যাওয়ার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় বাধা আরাকান রাজ্যের চলমান সংঘাত। সংঘাত থামলেই তাদের ফেরার পরিবেশ সৃষ্টি হবে। এজন্য আন্তর্জাতিক বিশ্বকে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করতে হবে।”
এ সময় তিনি রোহিঙ্গাদের খাদ্য সহায়তার জন্য দাতা দেশগুলোর কাছে জরুরি ভিত্তিতে ৩ কোটি ডলার তহবিল সহায়তার আহ্বান জানান। তার ভাষায়, “এখানে রোহিঙ্গাদের অবস্থা ভয়াবহ। তাদের ছয় মাসের খাদ্য সরবরাহ নিশ্চিত করতে এই অর্থ প্রয়োজন। সহায়তা না মিললে তারা না খেয়ে থাকবে, অপুষ্টির হারও বাড়বে।”
২০১৭ সালের আগস্টে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে আরসা বিদ্রোহী গোষ্ঠীর হামলার জের ধরে সেনাবাহিনীর দমন-পীড়নের মুখে লাখ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়। বর্তমানে কক্সবাজারের কুতুপালংসহ বিভিন্ন শিবিরে ১৫ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা অবস্থান করছেন।
শুরুর দিকে তাদের খাদ্য সহায়তা দেয় বাংলাদেশ সরকার। পরে এ দায়িত্ব নেয় জাতিসংঘের ওয়ার্ল্ড ফুড প্রোগ্রাম। এতদিন এই সংস্থার তহবিলে সবচেয়ে বড় সহায়তা এসেছে যুক্তরাষ্ট্র থেকে। তবে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন বিদেশি সহায়তা স্থগিত করার পর ইউএসএইডের অর্থায়ন বন্ধ হয়ে যায়।
এদিকে, মিয়ানমারে সংঘাত বাড়তে থাকায় গত কয়েক মাসে নাফ নদী পেরিয়ে বাংলাদেশে নতুন করে আরও প্রায় ১ লাখ রোহিঙ্গা প্রবেশ করেছেন।
সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি


