অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস আজ বুধবার চীনের রাজধানী বেইজিংয়ের উদ্দেশে রওনা দিচ্ছেন। এ সফরের মূল লক্ষ্য দুই দেশের অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়িয়ে সম্পর্ককে আরও উচ্চতায় নিয়ে যাওয়া। তার সফরে বেশ কিছু চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক সই হওয়ার পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা আসতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আঞ্চলিক ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যে প্রধান উপদেষ্টার প্রথম দ্বিপক্ষীয় সফর হিসেবে চীনকে বেছে নেওয়া কৌশলগত দৃষ্টিকোণ থেকে গুরুত্বপূর্ণ।
পররাষ্ট্র সচিব মো. জসীম উদ্দিন মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, প্রধান উপদেষ্টা চীনের হাইনান প্রদেশে অনুষ্ঠিত বোয়াও ফোরাম ফর এশিয়ার (BFA) সম্মেলনে যোগ দেবেন এবং বেইজিংয়ে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠক করবেন। এছাড়া, চীনের স্টেট কাউন্সিলের এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রিমিয়ার দিং ঝুঝিয়াংয়ের সঙ্গে বৈঠক এবং হুয়াওয়ের উচ্চ-প্রযুক্তিসম্পন্ন এন্টারপ্রাইজ পরিদর্শনও তার সফরসূচিতে রয়েছে।
দ্বিপক্ষীয় চুক্তি ও সম্ভাব্য ঘোষণা
ড. ইউনূসের সফরে পানি ব্যবস্থাপনা, অর্থনৈতিক ও কারিগরি সহযোগিতা, সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া উন্নয়ন এবং গণমাধ্যম সম্পর্কিত বেশ কিছু চুক্তি সই হতে পারে। এছাড়া অর্থনৈতিক বিনিয়োগ, বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল এবং স্বাস্থ্য খাতে নতুন সহযোগিতার ঘোষণা আসার সম্ভাবনা রয়েছে।
তিস্তা প্রকল্প ও সামরিক সহযোগিতা
তিস্তা প্রকল্প নিয়ে আলোচনার সম্ভাবনা রয়েছে বলে পররাষ্ট্র সচিব জানিয়েছেন। চীনের প্রেসিডেন্ট ও প্রধান উপদেষ্টার বৈঠকে পানি ব্যবস্থাপনা, অর্থনৈতিক সহায়তা, রোহিঙ্গা সংকট এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা বিষয়ে আলোচনা হতে পারে। সামরিক সহযোগিতা নিয়েও উভয় দেশের মধ্যে সাধারণ আলোচনা হবে বলে জানা গেছে।
স্বাস্থ্য খাতে চীনের সঙ্গে নতুন দিগন্ত
বাংলাদেশি রোগীদের চিকিৎসার জন্য চীনে চারটি হাসপাতাল নির্ধারণ করা হয়েছে এবং প্রথম ব্যাচ ইতোমধ্যে সেখানে চিকিৎসা নিয়েছে। ভবিষ্যতে চীন বাংলাদেশে একটি বিশেষায়িত হাসপাতাল স্থাপন করতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
সফরের অংশ হিসেবে ২৯ মার্চ পিকিং ইউনিভার্সিটি ড. ইউনূসকে সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রি প্রদান করবে। সফর শেষে তিনি চীনের একটি বিশেষ ফ্লাইটে ঢাকায় ফিরবেন।
সুত্রা২৪


