মহারাষ্ট্রের প্রাক্তন মন্ত্রী বাবা সিদ্দিকিকে বাণিজ্য নগরীতে হত্যা করা হয়েছে। শনিবার সন্ধ্যায়, মহারাষ্ট্রের আসন্ন নির্বাচনের মাঝে, নিজের অফিস থেকে বের হয়ে গাড়িতে উঠতে গেলে তাকে তিনটি গুলি করে হত্যা করা হয়। তার সঙ্গে ছিলেন তার ছেলে। এই ঘটনার পর আবারও আলোচনায় উঠে এসেছে কুখ্যাত গ্যাংস্টার লরেন্স বিষ্ণোইয়ের নাম। লরেন্স ২০২২ সালে পাঞ্জাবি গায়ক সিধু মুজ ওয়ালার হত্যাকাণ্ডের পর আন্তর্জাতিক পরিচিতি লাভ করে।
বাবা সিদ্দিকির হত্যাকাণ্ডের পর একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ্যে আসছে। জানা যাচ্ছে যে বিষ্ণোইয়ের গ্যাং শুধু পাঞ্জাব, হরিয়ানা, রাজস্থান, দিল্লি, এবং হিমাচলপ্রদেশেই নয়, দেশের বাইরেও বিস্তৃত। ধনী তারকা ও ব্যবসায়ীদের লক্ষ্য করে বিষ্ণোইয়ের গ্যাং খুন-রাহাজানির মতো গুরুতর অপরাধে জড়িত।
লরেন্স বিষ্ণোই ১৯৯৩ সালে পাঞ্জাবের আবোহারের কাছে ধাতারানওয়ালি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা ছিলেন হরিয়ানা পুলিশের কনস্টেবল। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াকালীন সময় থেকেই তিনি অপরাধের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পড়েন। প্রশ্ন ওঠে, জেলে থেকেও কীভাবে তিনি তার বিশাল গ্যাং পরিচালনা করেন? জানা যায়, সবরমতী বা তিহার জেল যেখানেই থাকুন, তিনি ফোনের মাধ্যমে সবসময় তার সহযোগীদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখেন।
বিষ্ণোই বিভিন্ন অ্যাপের মাধ্যমে তার গ্যাং পরিচালনা করে বলে মনে করা হয়। সূত্র অনুযায়ী, বিষ্ণোইয়ের গ্যাংয়ের প্রায় ৭০০ বন্দুকধারী দেশজুড়ে সক্রিয়। বছরের পর বছর ধরে তাদের কার্যকলাপ বেড়েই চলেছে। এমনকি জেলে থেকেও লরেন্স বিষ্ণোই তার গ্যাংয়ের উপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছেন। জেল কর্তৃপক্ষ দীর্ঘদিন ধরেই সন্দেহ করে যে তিনি অন্য গ্যাং নেতাদের মতোই কারাগারের ভেতর থেকে তার অপরাধ সাম্রাজ্য পরিচালনা করছেন।


