রাশিয়ার কাজানে শুরু হয়েছে ব্রিকস সম্মেলন, যেখানে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুটিনের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক হয়েছে। এছাড়াও মোদী ইরানের নতুন প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেসকিয়ানের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেছেন। মাসুদের এটি ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে প্রথম বৈঠক, কারণ তিনি জুলাই মাসে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। তবে কূটনৈতিক মহলের দৃষ্টি এখন মোদী এবং চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের আসন্ন বৈঠকের দিকে।
মোদী-পুটিন বৈঠক
মঙ্গলবার, মোদী এবং পুটিনের বৈঠকে ইউক্রেন যুদ্ধের বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। মোদী ইউক্রেন যুদ্ধের শান্তিপূর্ণ সমাধানের উপর জোর দেন এবং ভারত যে মধ্যস্থতা করতে প্রস্তুত, সে কথাও পুনর্ব্যক্ত করেন। দুই দেশের ঐতিহাসিক সম্পর্ক নিয়েও আলোচনা হয়, এবং ভারত-রাশিয়ার বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক অব্যাহত রাখার বিষয়ে সম্মতি হয়। ব্রিকস সম্মেলনের সফল আয়োজনের জন্য মোদী পুটিনকে অভিনন্দন জানান।
ইরানের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠক
ইরানের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে মোদীর বৈঠকেও গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়েছে, বিশেষত মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি নিয়ে। ইরান বর্তমানে পশ্চিমা বিশ্বের সঙ্গে উত্তেজনাপূর্ণ সম্পর্কে রয়েছে এবং ইসরায়েলের ওপর সরাসরি আক্রমণ চালিয়েছে। মোদী ইরানের প্রেসিডেন্টকে জানান, ভারত মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে এবং শান্তিপূর্ণ সমাধানের জন্য ভারত মধ্যস্থতা করতে আগ্রহী।
চাবাহার বন্দর ও আইএনএসটি প্রকল্প
দুই নেতার বৈঠকে চাবাহার বন্দর ও ইন্টারন্যাশনাল নর্থ-সাউথ ট্রান্সপোর্ট করিডোর (আইএনএসটি) প্রকল্প নিয়েও আলোচনা হয়েছে। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইরানে বসবাসরত ভারতীয়দের নিরাপত্তা নিয়েও কথা বলেছেন মোদী।
ভারত-চীন বৈঠক
বুধবার ব্রিকস সম্মেলনের মঞ্চে মোদী এবং চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। এর আগে দুই দেশ সীমান্তে উত্তেজনা প্রশমনের একটি চুক্তির ঘোষণা করেছে। ২০২০ সালে গালওয়ান সংঘর্ষের পর সম্পর্কের অবনতি ঘটলেও, চুক্তির মাধ্যমে দুই দেশ সীমান্ত থেকে অতিরিক্ত সেনা সরিয়ে নিচ্ছে। চীন বলেছে, ভারত-চীন সম্পর্ক ভূরাজনৈতিক দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং তারা ইতিবাচক মনোভাব দেখাচ্ছে।
এবারের শি-মোদী বৈঠক কূটনৈতিক মহলে বেশ তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে ধরা হচ্ছে, কারণ এটি পাঁচ বছর পর তাদের প্রথম বৈঠক।


