34.2 C
Dhaka
Wednesday, June 10, 2026

যুক্তরাষ্ট্রে ঘুষ-জালিয়াতির অভিযোগে আদানির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

advertisment
- Advertisement -spot_img

মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গৌতম আদানি, তার ভাতিজা সাগর আদানি এবং আরও ছয়জন মিলে ভারতীয় সরকারি কর্মকর্তাদের ২৬৫ মিলিয়ন ডলার ঘুষ দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। তাদের উদ্দেশ্য ছিল, এই ঘুষের মাধ্যমে ২০ বছরের মধ্যে প্রায় ২ বিলিয়ন ডলার লাভের চুক্তি অর্জন করা।

আদানি গ্রুপের চেয়ারম্যান এবং বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ ধনী গৌতম আদানির বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রে ঘুষ এবং জালিয়াতির অভিযোগ আনা হয়েছে। বুধবার (২০ নভেম্বর) নিউইয়র্কের আদালতে তার বিরুদ্ধে এ অভিযোগ দায়ের করা হয়। মার্কিন প্রসিকিউটরদের দাবি, গৌতম আদানি, সাগর আদানি এবং আদানি গ্রিন এনার্জির সাবেক সিইও ভিনিত জৈন একত্রে ৩ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি ঋণ ও বন্ড সংগ্রহ করেছেন। এ সময়ে তারা তাদের দুর্নীতির কার্যকলাপ গোপন রেখেছিলেন।

অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, গোপনে কিছু ব্যক্তি গৌতম আদানিকে “নম্বর ওয়ান” এবং “বড় মানুষ” হিসেবে উল্লেখ করতেন। এছাড়া, সাগর আদানি তার মোবাইল ফোনের মাধ্যমে ঘুষের তথ্য মনিটর করতেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।

আদানি গ্রুপ এখনও এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি। মার্কিন সরকার এবং অভিযুক্তদের আইনজীবীরাও এখনও এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানায়নি।

গৌতম আদানি, সাগর আদানি এবং ভিনিত জৈনসহ অন্যদের বিরুদ্ধে সিকিউরিটিজ জালিয়াতি, ষড়যন্ত্র এবং ওয়্যারলেস জালিয়াতি ষড়যন্ত্রের অভিযোগ আনা হয়েছে। আদানি ও তার ভাইপোর বিরুদ্ধে মার্কিন সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের একটি দেওয়ানি মামলা রয়েছে। এছাড়া, পাঁচজনের বিরুদ্ধে ‘ফরেন করাপ্ট প্র্যাকটিস অ্যাক্ট’ (ঘুষ বিরোধী আইন) এবং বিচারব্যাহত করার ষড়যন্ত্রের অভিযোগ আনা হয়েছে।

মার্কিন অ্যাটর্নি ব্রিওন পিস জানান, অভিযুক্তদের কেউ এখনও গ্রেপ্তার হননি। গৌতম আদানি বর্তমানে ভারতে রয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ফোর্বস ম্যাগাজিনের তথ্য অনুযায়ী, গৌতম আদানির বর্তমান সম্পদ ৬৯.৮ বিলিয়ন ডলার, তিনি বিশ্বের ২২তম এবং ভারতের দ্বিতীয় শীর্ষ ধনী। গুজরাটে জন্মগ্রহণকারী গৌতম আদানি মাত্র ১৬ বছর বয়সে স্কুল ছাড়েন এবং ১৯৮৮ সালে আদানি গ্রুপ প্রতিষ্ঠা করেন। এরপর তার ব্যবসা বিমানবন্দর, শিপিং পোর্ট, বিদ্যুৎ উৎপাদন, জ্বালানি পরিবহণ ও খনি খাতে সম্প্রসারিত হয়।

গৌতম আদানি বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগের মধ্যে অন্যতম বিলিয়নিয়ার। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ ঘোষণার পর, তিনি ৬০০ মিলিয়ন ডলার সংগ্রহ করেছেন ২০ বছরের “সবুজ” বন্ড বিক্রির মাধ্যমে। এর আগে ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে মার্কিন প্রতিষ্ঠান হিন্ডেনবার্গ রিসার্চ আদানি গ্রুপের বিরুদ্ধে শেয়ার জালিয়াতি ও অফশোর ট্যাক্স হেভেন ব্যবহারের অভিযোগ তোলে, যদিও আদানি গ্রুপ তা অস্বীকার করে।

এছাড়া, যারা আরও অভিযুক্ত হয়েছেন, তাদের মধ্যে রয়েছেন আজুর পাওয়ার গ্লোবাল-এর সাবেক সিইও রঞ্জিত গুপ্ত এবং সাবেক চিফ স্ট্র্যাটেজি অ্যান্ড কমার্শিয়াল অফিসার রুপেশ আগরওয়াল। তাদের বিরুদ্ধে ঘুষ দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, গৌতম ও সাগর আদানির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে এবং সেই পরোয়ানা আন্তর্জাতিক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে পাঠানোর পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

গত সপ্তাহে গৌতম আদানি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ ঘোষণা করেন, তার গ্রুপ যুক্তরাষ্ট্রের এনার্জি নিরাপত্তা ও অবকাঠামো প্রকল্পে ১০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করবে, যা ১৫ হাজার নতুন চাকরি সৃষ্টি করবে। তবে, বিনিয়োগের সময়সীমা এখনও নির্দিষ্ট করা হয়নি।

এদিকে, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে যে, তিনি আদানি ও তার কোম্পানিগুলোকে সুরক্ষা দিয়েছেন। মোদী এসব অভিযোগকে “মিথ্যা এবং বিভ্রান্তিকর” বলে অভিহিত করেছেন।

সর্বশেষ সংবাদ
- Advertisement -spot_img
আরও নিউজ