31.5 C
Dhaka
Friday, June 12, 2026

গাজা গণহত্যায় সহযোগিতা করেছে ট্রুডো,কানাডিয়ান স্বাস্থ্যকর্মীদের অভিযোগ

advertisment
- Advertisement -spot_img

গাজায় ইসরায়েলের গণহত্যায় জড়িত থাকার জন্য কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডোর সরকারকে অভিযুক্ত করেছেন দেশটির একদল স্বাস্থ্যকর্মী।

জনস্বাস্থ্য, নেফ্রোলজি এবং জেনারেল ইন্টারনাল মেডিসিনের চিকিৎসক বেন থমসন বলেন, “এক বছর আগে আমরা কানাডা সরকারের কাছে যুদ্ধবিরতির দাবি জানিয়েছিলাম। বিশেষ করে, হাসপাতালে হামলা ও স্বাস্থ্যকর্মীদের লক্ষ্যবস্তু করার ঘটনায় সরকারকে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে নিন্দা জানাতে বলেছিলাম।”

২৬ নভেম্বর, মঙ্গলবার, অটোয়ার পার্লামেন্ট হিলে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও বলেন, “আমরা কানাডা সরকারকে গণহত্যা এবং আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের লঙ্ঘন নিয়ে সরাসরি ইসরায়েলকে নিন্দা জানানোর আহ্বান জানিয়েছিলাম, কিন্তু আমাদের এই দাবি উপেক্ষা করা হয়েছে। এর পর, একটি ফলো-আপ বৈঠকও প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে।”

তিনি বলেন, “ইসরায়েলকে জবাবদিহির আওতায় আনার ক্ষেত্রে কানাডা সরকারের ব্যর্থতার কারণে হাজার হাজার ফিলিস্তিনি নারী ও শিশু মারা গেছে, আর এতে কানাডা সরকারের জড়িত থাকার বিষয়টি স্পষ্ট।”

থমসন চলমান গাজা সংকটকে ‘গণহত্যা’ বলে বর্ণনা করেছেন এবং কানাডিয়ান মিডিয়ার কাছে আবেদন করেছেন, “এই শব্দটি ব্যবহার করতে লজ্জিত হবেন না, এটা বন্ধ করবেন না।” তিনি আরও বলেন, “ইসরায়েল গাজায় গণহত্যা চালাচ্ছে। এখন সময় এসেছে এটা সবার কাছে স্পষ্টভাবে বলার।”

গাজায় ইসরায়েলের গণহত্যা থামাতে কানাডা সরকারের ‘নিষ্ক্রিয়তা’ নিয়ে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এবং বলেছেন, “আমরা চাই দেশের রাজনীতিবিদরা নিজেদের দায়িত্ব পালন করুন এবং গণহত্যা বন্ধ করার উদ্যোগ নিন। কিন্তু এর পরিবর্তে, জাস্টিন ট্রুডো এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী মেলানি জোলি ইসরায়েলি লবি গ্রুপগুলোর পক্ষে দাঁড়িয়ে আছেন।”

তিনি আরও বলেন, “এই গ্রুপগুলো যুদ্ধবিরতির বিরোধিতা করছে, ইসরায়েলের যুদ্ধাপরাধ অস্বীকার করছে এবং আন্তর্জাতিক আদালতের রায়কে অবজ্ঞা করছে।”

গাজায় গণহত্যা বন্ধে কানাডার প্রধানমন্ত্রী এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে থমসন বলেন, “আপনাদের এই পদক্ষেপগুলো ইসরায়েলের গণহত্যাকে সমর্থন করে। এখন সময় এসেছে পথ পরিবর্তন করার এবং যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়ার।”

২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে গাজার এক চিকিৎসক ড. ইপেং জি বলেন, “আমরা প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো, উপ-প্রধানমন্ত্রী ক্রিস্টিয়া ফ্রিল্যান্ড এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী মেলানি জোলিকে একটি চিঠি লিখেছিলাম, কিন্তু প্রায় চার মাস পরেও কোনো উত্তর পাইনি।”

তিনি দাবি করেন, “কানাডার সরকার এখনও গণহত্যায় জড়িত। এটি সরকারের চলমান সমর্থন এবং সক্রিয় অংশগ্রহণেরই প্রমাণ।”

আগস্ট মাসের শুরুতে ১৯ জন কানাডিয়ান চিকিৎসক একটি খোলা চিঠি প্রকাশ করেন, যেখানে তারা গাজায় মানবিক সংকট মোকাবিলায় দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে সরকারকে আন্তর্জাতিক মানবিক আইন ও আন্তর্জাতিক আদালতের রায় মেনে চলার অনুরোধ করেছেন।

সর্বশেষ সংবাদ
- Advertisement -spot_img
আরও নিউজ