শীতকালীন অধিবেশনের প্রথম দিন থেকেই ভারতের সংসদে ব্যাপক উত্তেজনা শুরু হয়েছে। আদানি, মণিপুর থেকে শুরু করে উত্তরপ্রদেশের সম্ভলসহ একাধিক ইস্যু নিয়ে বিরোধী দলগুলো প্রতিবাদ জানিয়ে হট্টগোল সৃষ্টি করেছে। এর ফলে, তৃতীয় দিনের মতো সংসদের উভয় কক্ষ মুলতবি করতে বাধ্য হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৮ নভেম্বর) আদানি গ্রুপের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে তুমুল বিতর্ক ও হট্টগোল হয়। গত ২০ নভেম্বর, নিউ ইয়র্কের একটি আদালত গৌতম আদানি ও তার ভাগ্নে সাগর আদানি সহ সাতজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে। পরবর্তীতে তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা এবং সমন জারি করা হয়।
অভিযোগে বলা হয়, ভারতের একটি মেগা সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প জিততে উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তাদের ২৬ কোটি ৫০ লাখ ডলার ঘুষ দেন গৌতম আদানি। এই ঘুষ তিনি নিজের প্রতিষ্ঠান আদানি গ্রিন এনার্জির জন্য প্রকল্পটি পাইয়ে দিতে দিয়েছিলেন।
প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেসের সাংসদ মানিকম ঠাকুর বলেন, “আমরা তৃতীয় দিনের মতো প্রধানমন্ত্রী থেকে এই ইস্যুতে জবাব চাইছি। আমরা চাই, এই বিষয়ে সংসদে আলোচনা হোক।” তিনি আরো বলেন, “প্রধানমন্ত্রী ব্যাখ্যা দিতে অস্বীকৃতি জানাচ্ছেন, আর তার দলের এমপিরা বারবার আলোচনা এড়িয়ে যাচ্ছেন। আজ যখন আমরা এ বিষয়ে কথা বলতে চাইলাম, তখন বিজেপি হট্টগোল শুরু করল।”
অনেক বিরোধী দল অভিযোগ করেছে যে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং বিজেপি আদানির পক্ষ নিয়ে তদন্তে বাধা দিচ্ছে। কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী সম্প্রতি মন্তব্য করেন, “গৌতম আদানিকে গ্রেপ্তার করা উচিত, কিন্তু মোদি তাকে রক্ষা করছেন।”
গুজরাট রাজ্যে জন্মগ্রহণ করা গৌতম আদানি, প্রধানমন্ত্রী মোদির ঘনিষ্ঠ বন্ধু হিসেবে পরিচিত। মোদি নিজেও গুজরাট থেকে উঠে আসা রাজনীতিবিদ। তাই আদানির সঙ্গে তার সম্পর্ক বেশ ঘনিষ্ঠ। তবে অভিযোগ গঠন ও পরোয়ানা জারির পর, এ বিষয়ে মোদি কিংবা বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব এখন পর্যন্ত কোন মন্তব্য করেননি।
অধিবেশন শুরু হওয়ার পর থেকেই বিরোধীরা আদানি ইস্যুতে আলোচনা দাবি করে আসছিল। হট্টগোলের কারণে প্রথমে এক ঘণ্টার জন্য অধিবেশন মুলতবি করা হয়। পরবর্তীতে একাধিক ইস্যুতে তীব্র বিতর্কের পর ২৭ নভেম্বর পর্যন্ত উচ্চকক্ষের অধিবেশন মুলতবি করা হয়।


