29.2 C
Dhaka
Sunday, June 14, 2026

ডলারের বিকল্প মুদ্রা নিয়ে আসলে ব্রিকস দেশগুলোর উপর ১০০% শুল্ক আরোপের হুমকি ট্রাম্পের

advertisment
- Advertisement -spot_img

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, তার প্রশাসনের সময়ে ব্রিকস জোটভুক্ত দেশগুলো ডলারের বিকল্প মুদ্রা চালুর চিন্তা করলে কঠোর শুল্ক আরোপ করা হবে। তিনি বলেছেন, এই দেশগুলোর কাছ থেকে ডলার ব্যবহার অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি চাই।

শনিবার (৩০ নভেম্বর) ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যাল-এ এক পোস্টে লিখেছেন, “ব্রিকস দেশগুলো যদি ডলারের পরিবর্তে নতুন কোনো মুদ্রা চালু করতে চায়, তবে আমরা তা চুপচাপ মেনে নেব না। তাদের প্রতিশ্রুতি দিতে হবে যে তারা ডলার প্রতিস্থাপনের কোনো চেষ্টা করবে না। না হলে, তাদের পণ্যের ওপর ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে।

ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত, চীন এবং দক্ষিণ আফ্রিকা নিয়ে গঠিত ব্রিকস জোটে সম্প্রতি ইরান, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ইথিওপিয়া এবং মিশর যোগ দিয়েছে। এটি গত এক দশকের মধ্যে জোটের প্রথম বড় সম্প্রসারণ। এদিকে দক্ষিণ আফ্রিকার পররাষ্ট্রমন্ত্রী নালেদি পানডোর জানিয়েছেন, ৩৪টি দেশ ব্রিকস-এ যোগ দেওয়ার আগ্রহ দেখিয়েছ

২০২৩ সালে ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা দক্ষিণ আমেরিকায় একটি সাধারণ মুদ্রা চালুর প্রস্তাব দেন, যা মার্কিন ডলারের ওপর নির্ভরতা কমাতে পারে। ব্রিকসের সদস্য দেশগুলো নিজেদের মুদ্রা এবং ব্যাংকিং ব্যবস্থা ব্যবহারের মাধ্যমে পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে যাওয়ার কৌশল নিয়েও আলোচনা করছে। তবে, অর্থনৈতিক ও ভৌগোলিক বৈচিত্র্যের কারণে নতুন মুদ্রা চালুর সম্ভাবনা আপাতত কম।

ব্রিকস জোট চীনের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। এটি যুক্তরাষ্ট্রের বৈশ্বিক নেতৃত্বকে চ্যালেঞ্জ জানাতে চায় এবং অন্যান্য বড় দেশগুলোর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তুলছে। একইভাবে, রাশিয়ার জন্যও এটি গুরুত্বপূর্ণ। ২০২২ সালে ইউক্রেনে হামলার পর পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার মুখে রাশিয়া এই জোট থেকে বড় সমর্থন পাচ্ছে। এ বছর রাশিয়া ব্রিকসের সভাপতিত্ব গ্রহণ করেছে।

অক্টোবরে ব্রিকস সম্মেলনে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং চীনা নেতা শি জিনপিং পশ্চিমা দেশগুলোর বিরুদ্ধে তাদের জোটবদ্ধ অবস্থান তুলে ধরেন। তারা দাবি করেন, বিশ্বব্যাপী “গ্লোবাল মেজরিটি” দেশগুলো তাদের সমর্থন করছে।

নির্বাচিত হওয়ার পরপরই ট্রাম্প মেক্সিকো, কানাডা এবং চীন থেকে আমদানি করা পণ্যের ওপর বড় শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেন। তার দাবি, এটি অবৈধ অভিবাসন, অপরাধ এবং মাদক চোরাচালান মোকাবিলার জন্য করা হয়েছে।

এ ঘোষণার পর মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লাউডিয়া শেইনবাউমের সঙ্গে ট্রাম্প ফোনে কথা বলেন। তবে দুই পক্ষের বক্তব্যে পার্থক্য দেখা গেছে। অন্যদিকে, কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো ফ্লোরিডার মার-এ-লাগোতে ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক করেন। এই ডিনার বৈঠককে ট্রুডো “চমৎকার আলোচনা” এবং ট্রাম্প “অত্যন্ত ফলপ্রসূ” বলে উল্লেখ করেন।

সর্বশেষ সংবাদ
- Advertisement -spot_img
আরও নিউজ