প্রতি বছর খরা ও ভূমি অবক্ষয়ের ফলে পৃথিবীর উর্বর জমি হারিয়ে যাচ্ছে প্রায় ১ মিলিয়ন বর্গকিলোমিটার, যা বিশ্বকে বিপর্যয়ের মুখে ঠেলে দিচ্ছে।
সৌদি আরবের রিয়াদ শহরে ২ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত কপ ১৬-এর উদ্বোধনী সংবাদ সম্মেলনে এই উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। সেখানে সৌদি আরবের পরিবেশ বিষয়ক উপমন্ত্রী ও কপ ১৬-এর উপদেষ্টা ডা. ওসামা ফকিহা, ইউএনসিসিডি-এর নির্বাহী সচিব ইব্রাহিম থিয়াও এবং পটসডাম ইনস্টিটিউট ফর ক্লাইমেট ইমপ্যাক্ট রিসার্চের পরিচালক অধ্যাপক জোহান রকস্ট্রোম বক্তব্য দেন।
ইব্রাহিম থিয়াও বলেন, কপ ১৬-এ বেসরকারি খাতের উচ্চ পর্যায়ের অংশগ্রহণ পেয়ে তিনি খুশি। তিনি আরও জানান, এটি শুধুমাত্র সরকারগুলোর আলোচনা নয়, বেসরকারি খাতকেও অন্তর্ভুক্ত করার একটি সুবর্ণ সুযোগ। থিয়াও উল্লেখ করেন যে, খাদ্য ব্যবস্থা, খনি ও ফ্যাশনের জন্য তুলা উৎপাদনের ফলে ভূমি ক্ষয় একটি প্রধান কারণ। তিনি বেসরকারি খাতের আরও সক্রিয় ভূমিকা গ্রহণের আহ্বান জানান।
জাতিসংঘের ডেপুটি সেক্রেটারি জেনারেল আমিনা জে. মোহাম্মদ বলেন, নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোকে খরার প্রতিক্রিয়া থেকে প্রাথমিক সতর্কতা ব্যবস্থা এবং কৃষি স্থিতিস্থাপকতা বৃদ্ধির মতো পদক্ষেপ গ্রহণে সহায়তা করতে হবে। তিনি উল্লেখ করেন, ইতোমধ্যে বিশ্বের ৪০% উর্বর জমি ক্ষয়প্রাপ্ত হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ভূমি পুনরুদ্ধারের জন্য প্রয়োজনীয় তহবিলের মাত্র ৬% বেসরকারি খাত থেকে আসে। বিশ্বব্যাপী ভূমি ক্ষয় মোকাবিলায় খরা, ভূমি পুনরুদ্ধার ও অর্থায়নকে প্রধান অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত।
সংবাদ সম্মেলনে উপমন্ত্রী ফকিহা জানান, সৌদি আরবের ভূমি সংরক্ষণে বেসরকারি খাতের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তিনি বলেন, খরার প্রতিরোধ, টেকসই ভূমি ব্যবস্থাপনা, জীববৈচিত্র্য সুরক্ষা এবং জলবায়ু স্থিতিস্থাপকতায় বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণ জরুরি। ফকিহা জোর দিয়ে বলেন, পরিবেশ সুরক্ষা ব্যবসায়িক কৌশলের একটি মৌলিক অংশ হতে হবে এবং বেসরকারি খাতকে জমি সংরক্ষণে বাস্তব আর্থিক অবদান রাখতে হবে।
ফকিহা আরও বলেন, বেসরকারি খাতের বিনিয়োগ জীববৈচিত্র্য উন্নয়ন, জলবায়ু স্থিতিস্থাপকতা, খাদ্য নিরাপত্তা এবং সামাজিক মঙ্গলসহ ব্যবসার জন্য বহুমুখী সুবিধা প্রদান করবে। তিনি উল্লেখ করেন, ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার জন্য ২০৫০ সালের মধ্যে খাদ্য উৎপাদন দ্বিগুণ করতে হবে।


