সিরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদ বিদ্রোহীদের চাপে দেশ ছেড়ে রাশিয়ায় আশ্রয় নিয়েছেন। ধারণা করা হচ্ছে, তিনি ও তার পরিবার রাশিয়ায় রাজনৈতিক আশ্রয় পাবেন।
বাশার আল আসাদ দেশ ত্যাগ করার পরপরই ইসরায়েল সিরিয়ার বিভিন্ন স্থানে হামলা চালিয়েছে। দেশটির দাবি, তারা সিরিয়ার সন্দেহভাজন রাসায়নিক অস্ত্র ও দূরপাল্লার রকেট ধ্বংস করেছে। ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিডিয়ন সার বলেছেন, এসব অস্ত্র যাতে উগ্রপন্থিদের হাতে না পড়ে, সে জন্য হামলা চালানো হয়েছে।
তিনি বলেন, “ইসরায়েলের জনগণের নিরাপত্তা আমাদের একমাত্র লক্ষ্য। রাসায়নিক অস্ত্র ও দূরপাল্লার রকেট ধ্বংস করা আমাদের কর্তব্য।”
রয়টার্স জানিয়েছে, ইসরায়েলের বিমান হামলায় দামেস্কের একটি গবেষণা কেন্দ্র এবং নিরাপত্তা কমপ্লেক্স ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। গবেষণা কেন্দ্রটি ইরানের সহযোগিতায় ক্ষেপণাস্ত্র উন্নয়নে ব্যবহৃত হতো বলে অভিযোগ করেছে ইসরায়েল।
এর বাইরে সিরিয়ার খালখালা বিমানঘাঁটি এবং মেজ্জাহ সামরিক বিমানবন্দরের কাছে গোলাবারুদ ডিপোতেও হামলা চালানো হয়েছে।
একই দিনে যুক্তরাষ্ট্র সিরিয়ায় আইসিস ঘাঁটিগুলোতে হামলা চালায়। হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, অন্তত ৭৫টি আইসিস ঘাঁটি লক্ষ্য করে গোলাবর্ষণ করা হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন জানান, “আমরা একটি স্বাধীন এবং সার্বভৌম সিরিয়া গড়তে সহায়তা করব।”
বাইডেন আরও বলেন, বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর কার্যক্রম ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে এবং তাদের মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
সিরিয়ায় সরকারহীনতার সুযোগ নিয়ে ইসরায়েল গোলান মালভূমি দখল করে নিয়েছে। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, “গোলান মালভূমি নিয়ে সিরিয়ার সঙ্গে যে চুক্তি হয়েছিল, তা এখন আর কার্যকর নয়।”
১৯৭৪ সালের চুক্তি অনুযায়ী মালভূমিটি দুই দেশের মধ্যে বিতর্কিত ছিল। তবে নেতানিয়াহু পরিষ্কার করেছেন যে, “কোনো শত্রু শক্তিকে আমাদের সীমান্তে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না।”
সিরিয়ায় ক্ষমতার শূন্যতায় ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র সক্রিয় হয়ে উঠেছে। ইসরায়েল রাসায়নিক অস্ত্র ধ্বংস এবং কৌশলগত এলাকায় নিয়ন্ত্রণ নিতে তৎপর। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র আইসিসের পুনর্গঠনের চেষ্টাকে রুখতে উদ্যোগী। এই সংকটে বাশার আল আসাদের রাশিয়ায় আশ্রয় নেওয়ার ঘটনা মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।


