২০১১ সালে সিরিয়ার দক্ষিণাঞ্চলের দারা এলাকায়, যেখানে একটি রাস্তার পাশে বসেছিল মুয়াবিয়া সায়সানেহ নামে এক কিশোর, সব কিছু বদলে যেতে শুরু করে। মুয়াবিয়া স্প্রে করে লিখেছিলেন, “এজাক এল দরজা, ইয়া ডাক্তার”—অর্থাৎ, “এবার তোমার পালা, ডাক্তার।” মূলত প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদকে উদ্দেশ্য করে তিনি এই গ্রাফিতিটি করেছিলেন।
এনডিটিভির প্রতিবেদন অনুসারে, ওই গ্রাফিতি সিরিয়ার জাতীয় বিদ্রোহের এক চিহ্ন হয়ে ওঠে। এটি ২১ শতকের ভয়াবহ গৃহযুদ্ধের সূচনা করেছিল। পুলিশের হাতে গ্রেফতার হওয়া মুয়াবিয়া এবং তার বন্ধুদের ওপর শারীরিক নির্যাতন এবং গ্রেফতারের পর দারার বাসিন্দারা আন্দোলনে সামিল হন। প্রতিবাদ চলাকালে তাদের বিরুদ্ধে টিয়ার গ্যাস এবং গুলি ছোড়া হয়।
এই গ্রাফিতি ও দারার বিক্ষোভের ছবি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে, যা সিরিয়ার অন্য প্রান্তগুলোতেও আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে। মার্চ ২০১১ সালে প্রথমবারের মতো দেশব্যাপী বিক্ষোভ শুরু হয়, যা স্বাধীনতা এবং আসাদ সরকারের পতনের দাবিতে পরিণত হয়। শান্তিপূর্ণ এই আন্দোলনকে সহিংসতায় পরিণত করে আসাদ বাহিনী, যারা নির্বিচারে বিক্ষোভকারীদের ওপর গুলি চালায়।
২০০০ সালে বাবা হাফিজ আল বাশাদের মৃত্যুর পর বাশার আল আসাদের শাসন শুরু হয়। প্রথমদিকে সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দিলেও, ধীরে ধীরে তিনি তার বাবা মতো কর্তৃত্ববাদী শাসকের ভূমিকা গ্রহণ করেন। ২০১১ সালে আরব বসন্তের পর আসাদ সরকারের পতনের দাবি উঠেছিল, কিন্তু রাশিয়া ও ইরানের সমর্থনে আসাদ তখন টিকে ছিলেন। কিন্তু এখন রাশিয়া ও ইরান তাদের সামরিক উপস্থিতি কমিয়ে দেওয়ার পর, হায়াত তাহরির আল শামের নেতৃত্বে বিদ্রোহীদের হাতে তিনটি শহর হারিয়ে পালাতে বাধ্য হন আসাদ। শেষ পর্যন্ত গোপনে বিমানে চড়ে সিরিয়া ছেড়ে চলে যেতে হয় তাকে।


