16 C
Dhaka
Friday, January 16, 2026

আ. লীগকে ফিরিয়ে আনাই দিল্লির দোসরদের মিশন : ঢাবি শিবির সভাপতি

advertisment
- Advertisement -spot_img

চব্বিশ দিয়ে একাত্তরকে মুছে ফেলার নতুন বয়ান ৫ আগস্টের পর সচেতনভাবেই বাজারে ছড়ানো হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি এস এম ফরহাদ। তিনি বলেন, “তারা একাত্তর ও চব্বিশকে প্রশ্নবিদ্ধ করার রাজনীতি শুরু করেছে। হাসিনার গণহত্যাকে স্বাভাবিক করে এবং পরোক্ষভাবে দায়মুক্তি দিয়ে আওয়ামী লীগকে রাজনীতিতে ফিরিয়ে আনাই তাদের মিশন।”

বুধবার (৬ আগস্ট) নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি এসব মন্তব্য করেন।


এস এম ফরহাদের স্ট্যাটাস হুবহু নিচে তুলে ধরা হলো:

‘চব্বিশ দিয়ে একাত্তরকে মুছে ফেলা’র নতুন বয়ান ৫ আগস্টের পর সচেতনভাবে বাজারে ছড়ানো হয়েছে। চব্বিশ ও একাত্তর—বাংলাদেশের ইতিহাস পরিবর্তনকারী দুটি ঘটনা। একাত্তর এই জাতিকে একটি আলাদা মানচিত্র দিয়েছে এবং হাসিনার ফ্যাসিবাদ ও আধিপত্যবাদী শাসন থেকে মুক্তি দিয়েছে চব্বিশ।

নিয়মতান্ত্রিক রাজনীতিতে বিশ্বাসী কোনো দল বা সংগঠন চব্বিশ দিয়ে একাত্তরকে মুছে ফেলার রাজনীতি করেনি। যারা বারবার দুটিকে মুখোমুখি দাঁড় করানোর চেষ্টা করেছে, তারাই একাত্তর ও চব্বিশকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।

একটিকে অপরটির মুখোমুখি দাঁড় করানোর ন্যারেটিভ মূলত চব্বিশকে প্রশ্নবিদ্ধ করার অপচেষ্টা এবং পতিত স্বৈরাচারের পক্ষে এক পরোক্ষ অবস্থান। হাসিনার গণহত্যাকে স্বাভাবিক করে এবং প্রকারান্তরে দায়মুক্তি দিয়ে আওয়ামী লীগকে রাজনীতিতে ফিরিয়ে আনাই তাদের মিশন।

রাজনৈতিক দেউলিয়াত্বে আক্রান্ত কিংবা হীন স্বার্থে চালিত হয়ে এই আরোপিত বয়ানে যোগ দিচ্ছে কিছু স্বঘোষিত ‘বাংলাদেশপন্থী’ এবং ‘পোস্ট-আইডিওলজি’ ধারার মানুষ।

চব্বিশে আওয়ামী লীগ ও শাহবাগের রাজনৈতিক পরাজয়ের পর এই বিভাজনমূলক ন্যারেটিভ জিইয়ে রাখার মধ্য দিয়ে নতুন রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ গড়ে তোলার পুরনো অপচেষ্টা এখন দিল্লির নতুন প্রকল্পে রূপ নিয়েছে। এই প্রকল্প বাস্তবায়নে সক্রিয় হয়েছে হাসিনাশাহীর প্রত্যক্ষ সহযোগী এবং দিল্লির দোসররা।

নতুন করে হাসিনার পুরনো বয়ানের ফেরি শুরু করেছে শাপলা-শাহবাগের মব সন্ত্রাসীরা। তাদের লক্ষ্য হলো মানুষকে হাসিনাবাদে বাধ্য করা।

অর্থাৎ, মুক্তিযুদ্ধকে শুধুই হাসিনার দৃষ্টিকোণ থেকে দেখতে হবে, তার তৈরি ইতিহাসের আলোকে বাংলাদেশের রাজনীতি নির্ধারিত হবে। এটি গণহত্যাকারী হাসিনাকে স্বাভাবিক করার এক ঘৃণ্য চক্রান্ত

তারা মুক্তিযুদ্ধের বিকল্প বয়ান খারিজ করে, শুধুমাত্র হাসিনার বয়ানকে গ্রহণযোগ্য হিসেবে প্রতিষ্ঠা দিতে চায়। মুজিব-বাকশাল এবং হাসিনা-শাহবাগ প্রকল্প মুক্তিযুদ্ধকে একগোষ্ঠীর ইতিহাস বানিয়ে তা প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।

সুতরাং, যাদের বয়ান গণহত্যার সহানুভূতি তৈরি করে, খোদ মুক্তিযুদ্ধকেই প্রশ্নবিদ্ধ করে, তাদের বিরুদ্ধে জাতীয় ঐক্য জরুরি

আমরা মুক্তিযুদ্ধের শাহবাগী বা হাসিনাবাদী বয়ানকে প্রত্যাখ্যান করি। মুক্তিযুদ্ধের নামে যে দুর্নীতি ও অবিচার হয়েছে, আমরা তার মূলোৎপাটন করব এবং গণআকাঙ্ক্ষার ভিত্তিতে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস নির্মাণ করব।

আজকের নতুন বাংলাদেশে এই নব্য হাসিনাবাদের স্লোগানধারীরা বিভিন্নভাবে ছাত্রশিবিরকে ফ্যাসিবাদী কাঠামোয় উপস্থাপন করতে চায়। দিল্লির এই এক্সটেনশন, হাসিনার কায়দায় জুলাই অভ্যুত্থানের অন্যতম নায়ক সাদিক কায়েমের ওপর ‘পাকিস্তানি ট্যাগ’ চাপিয়ে দিতে চায়

যারা বাংলাদেশের অগ্রগতিকে দিল্লির জন্য হুমকি মনে করে, তারা যে কোনোভাবে দিল্লির এজেন্ডা বাস্তবায়নে তৎপর।

আমরা বিশ্বাস করি, একাত্তরের সব যুদ্ধাপরাধের বিচার হওয়া উচিত—ফেয়ার ট্রায়ালের মাধ্যমে। যারা শাহবাগ কায়েম করে মব সন্ত্রাস চালিয়েছে, হাসিনাকে ক্রসফায়ারের বৈধতা দিয়েছে, চব্বিশে গুলি চালিয়ে মানুষ হত্যা করেছে—তাদের বিচারও হওয়া উচিত। তবে কোনো বিচারই আইনি প্রক্রিয়া লঙ্ঘন করে হওয়া উচিত নয়

হাসিনা-শাহবাগের ফ্রেমওয়ার্কে কাউকে যুদ্ধাপরাধী বলা বাংলাদেশের বিচারব্যবস্থাকে অবমাননার শামিল।

মুক্তিযুদ্ধ থেকে শাহবাগী ফ্যাসিবাদ পর্যন্ত প্রতিটি গণহত্যার বিচার হতে হবে।

স্কাইপি কেলেঙ্কারি, আইনজীবীকে আইনঘরে নেয়া, সাক্ষীকে গুম করে ভারতে পাঠানো কিংবা মব সন্ত্রাসের মাধ্যমে ট্রায়াল—এসব বিচারিক হত্যাকাণ্ড। আমরা বিচার ও নিয়মতান্ত্রিকতায় বিশ্বাস করি।

তাই, চব্বিশের জুলাই গণ-অভ্যুত্থান-পরবর্তী ইনসাফের বাংলাদেশ গড়তে আমাদের সংগ্রাম চলবে।

অবিচার ও মব সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে এই লড়াই চলবে আজীবন।”

সর্বশেষ সংবাদ
- Advertisement -spot_img
আরও নিউজ