রংপুরের বদরগঞ্জে ভাড়াটিয়া এবং দোকান মালিকের মধ্যে দ্বন্দ্বের জেরে বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে একজন নিহত হয়েছেন এবং ১৫ জন আহত হয়েছেন। শনিবার (৫ এপ্রিল) দুপুর ১২টার দিকে বদরগঞ্জ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের পাশে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
নিহত ব্যক্তির নাম লাভলু মিয়া (৫০), যিনি রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। তার ছেলে রায়হান আলী জানান, লাভলুর মৃত্যু নিশ্চিত হয়েছে। আহতদের মধ্যে ৪ জনের অবস্থা গুরুতর ছিল, যাদের মধ্যে ৯ জনকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, বাকি আহতরা স্থানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়েছেন।
এ ঘটনায় সাবেক সংসদ সদস্য এবং উপজেলা বিএনপির সদস্য মোহাম্মদ আলী সরকার অভিযোগ করেছেন, লাভলু মিয়াকে প্রকাশ্যে মাথায় ছুরিকাঘাত করে হত্যা করা হয়েছে। তিনি দাবি করেন, এই হত্যার পেছনে কালুপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শহিদুল হক ও তার ছেলে তমালের নেতৃত্বে সন্ত্রাসীরা জড়িত। তবে শহিদুল হক এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এবং বলেছেন, তার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ আনা হচ্ছে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, স্থানীয় বিএনপির নেতাদের মধ্যে দ্বন্দ্বের কারণে এই সংঘর্ষ ঘটে। বিষয়টি মূলত একটি টিনের দোকানকে কেন্দ্র করে সংঘটিত হয়, যেখানে ভাড়াটিয়া জাহিদুল হক এবং দোকানের মালিক ইসতিয়াক হোসেনের মধ্যে চলমান উত্তেজনা ছিল।
এই সংঘর্ষে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে দুইটি পক্ষে বিভক্ত হওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এক পক্ষ জাহিদুল হকের পক্ষে দাঁড়িয়েছে, অপর পক্ষ ইসতিয়াক হোসেনের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। দুই পক্ষের মধ্যে হামলা ও মানববন্ধনকে কেন্দ্র করে এই সহিংসতা সৃষ্টি হয়।
পুলিশ এবং সেনাবাহিনী ঘটনাস্থলে উপস্থিত রয়েছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
এ ঘটনায় রংপুর জেলা বিএনপি তিন দলের নেতাদের কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে। দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে তাদের তিনজনকে আগামী তিন দিনের মধ্যে জবাব দেওয়ার জন্য বলা হয়েছে।
সুত্রা২৪


