জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) নতুন বাংলাদেশের ইশতেহার ঘোষণা করতে যাচ্ছে শহীদ মিনারে আয়োজিত জনসমাবেশ থেকে। দলটি জানিয়েছে, ইশতেহারে থাকবে মোট ২৪টি দফা, যেখানে নতুন রাষ্ট্রগঠনের রূপরেখা ও কর্মসূচি তুলে ধরা হবে। একইসঙ্গে আজকের এই সমাবেশের মধ্য দিয়ে সারাদেশজুড়ে জুলাই মাসব্যাপী চলা পদযাত্রার আনুষ্ঠানিক সমাপ্তিও ঘোষণা করবে এনসিপি।
আজ রোববার (৩ আগস্ট) বিকেল ৪টায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে অনুষ্ঠিত হবে এ সমাবেশ। উল্লেখযোগ্য যে, ঠিক এক বছর আগে একই স্থান থেকে এক দফা দাবি উত্থাপন করেছিলেন নাহিদ ইসলাম, যিনি বর্তমানে এনসিপির আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
ইশতেহারের মূল প্রতিপাদ্য হতে পারে তিনটি বিষয়: বিচার, সংস্কার এবং নতুন সংবিধান।
জুলাই মাসজুড়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে অনুষ্ঠিত পদযাত্রায় এই তিনটি বিষয়কে ঘিরেই বক্তব্য দিয়েছে এনসিপি।
- বিচার:
এনসিপি চায়, জুলাই গণহত্যার দৃশ্যমান বিচার। যারা এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে চলমান মামলাগুলোর রায় যেন দ্রুত কার্যকর করা হয়, সেটাই তাদের প্রত্যাশা। - সংস্কার:
এনসিপি চাইছে, ঐকমত্য কমিশনের মাধ্যমে ‘জুলাই সনদ’ প্রণয়ন করে তা আইনগত ভিত্তি দেওয়া হোক। তারা মনে করে, এই সনদের ভিত্তিতেই আগামী নির্বাচন এবং পরবর্তী রাজনৈতিক কাঠামো গড়ে উঠা উচিত। সংস্কারের কাজ নির্বাচন পরবর্তী সংসদের হাতে না দিয়ে বরং একটি গণপরিষদ বা নির্দিষ্ট কাঠামোর মাধ্যমে তা পরিচালনার দাবি জানাবে এনসিপি। এছাড়া, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় থেকেই ‘জুলাই সনদ’ কার্যকর করার আহ্বানও থাকবে তাদের ইশতেহারে। - নতুন সংবিধান ও তরুণদের আকাঙ্ক্ষা:
তরুণদের যে চেতনা থেকে জুলাই অভ্যুত্থান সংগঠিত হয়েছে, তা বাস্তবায়নের দাবিও তুলবে এনসিপি। তাদের মতে, শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকার সেই আকাঙ্ক্ষা পূরণে ব্যর্থ হয়েছে। তাই পরবর্তী বাংলাদেশে এসব দাবির আইনি ভিত্তি নিশ্চিত করতে চায় দলটি।
প্রসঙ্গত, এনসিপি শুরুতে জুলাই ঘোষণাপত্র নিজেরাই প্রকাশ করতে চেয়েছিল। কিন্তু সরকার ৫ আগস্ট বিকেল ৫টায় এটি প্রকাশের কথা জানানোয় সমাবেশের নাম পরিবর্তন করে রাখা হয়েছে “নতুন বাংলাদেশের ইশতেহার”।


