27.5 C
Dhaka
Sunday, June 14, 2026

জনপ্রিয়তা বাড়ছে এনসিপির, কমছে বিএনপি ও জামায়াতের: জরিপ

advertisment
- Advertisement -spot_img

গত বছরের অক্টোবরের তুলনায় বর্তমানে দেশের বড় দল বিএনপির জনপ্রিয়তা কমলেও তরুণদের নেতৃত্বে গঠিত জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) জনপ্রিয়তা বেড়েছে। সম্প্রতি এক জরিপে দেখা যায়, ২০২৪ সালের অক্টোবরে বিএনপির জনপ্রিয়তা ছিল ১৬ দশমিক ৩ শতাংশ, যা গত জুলাইয়ে নেমে এসেছে ১২ শতাংশে। জামায়াতের জনপ্রিয়তা ১১ দশমিক ৩ শতাংশ থেকে কমে দাঁড়িয়েছে ১০ দশমিক ৪ শতাংশে। অপরদিকে, এনসিপির জনপ্রিয়তা ২ শতাংশ থেকে বেড়ে হয়েছে ২ দশমিক ৮ শতাংশ। তবে ‘কোন দলকে ভোট দেবেন’ প্রশ্নে এখনো ৪৮ দশমিক ৫ শতাংশ সিদ্ধান্ত নেননি বলে জানিয়েছেন।

আজ সোমবার আগারগাঁওয়ের জাতীয় আর্কাইভ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত ‘বিআইজিডি পালস সার্ভে’র ফলাফল প্রকাশ করা হয়। ব্র্যাক ইনস্টিটিউট অব গভর্ন্যান্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (বিআইজিডি) ও ভয়েস ফর রিফর্ম যৌথভাবে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। জরিপের শিরোনাম ছিল ‘জনগণের মতামত, অভিজ্ঞতা ও প্রত্যাশা জুলাই ২০২৫’। এতে অন্তর্বর্তী সরকারের কর্মদক্ষতা, সংস্কারের প্রত্যাশা ও আগামী নির্বাচনে রাজনৈতিক দলগুলোর জনসমর্থন বিষয়ে মতামত নেওয়া হয়।

মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিআইজিডির ফেলো সৈয়দা সেলিনা আজিজ। উপস্থিত ছিলেন ভয়েস ফর রিফর্মের সহ-আহ্বায়ক এ কে এম ফাহিম মাশরুর, বিআইজিডির সিনিয়র রিসার্চ ফেলো মিরাজ এম হাসান ও আসিফ শাহান।

সারা দেশের ৬৪ জেলায় ৫ হাজার ৪৮৯ জন নারী-পুরুষের মধ্যে ১ থেকে ২০ জুলাই পর্যন্ত টেলিফোনে এই জরিপ পরিচালনা করা হয়।

ফলাফলে দেখা যায়, আগামী জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগের পক্ষে ভোট দেওয়ার প্রবণতা ২০২৪ সালের অক্টোবরে ছিল ৮ দশমিক ৯ শতাংশ, যা জুলাইয়ে কমে দাঁড়িয়েছে ৭ দশমিক ৩ শতাংশে। জাতীয় পার্টির সমর্থন ২ দশমিক ৭ শতাংশ থেকে নেমেছে শূন্য দশমিক ৩ শতাংশে। অন্যান্য ইসলামিক দলের সমর্থনও কমেছে— ২ দশমিক ৬ শতাংশ থেকে কমে শূন্য দশমিক ৭ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। অন্য দলের প্রতিও সমর্থন কমেছে। ‘কাকে ভোট দেবেন’ প্রশ্নে উত্তর দিতে রাজি হননি ১৪ দশমিক ৪ শতাংশ উত্তরদাতা, যা গত অক্টোবরে ছিল ১২ দশমিক ৯ শতাংশ। গত বছরের অক্টোবরে এনসিপি রাজনৈতিক দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ না করলেও জাতীয় নাগরিক কমিটির ব্যানারে সক্রিয় ছিল।

‘আপনার নির্বাচনী এলাকায় কোন দলের প্রার্থী জিতবে’—এমন প্রশ্নে ৩৮ শতাংশ জানিয়েছেন বিএনপির প্রার্থী, জামায়াতের ১৩ শতাংশ, আওয়ামী লীগের ৭ শতাংশ, এনসিপির ১ শতাংশ এবং অন্যান্য দলের ৩ শতাংশ। এ প্রশ্নে ‘জানি না’ বলেছেন ২৯ শতাংশ এবং কোনো উত্তর দেননি ৯ শতাংশ।

আগামী জাতীয় নির্বাচন সুষ্ঠু হবে বলে আশাবাদী ৭০ শতাংশ মানুষ। তাঁদের মতে, নির্বাচন হবে অবাধ ও নিরপেক্ষ। ১৫ শতাংশ মনে করেন নির্বাচন সুষ্ঠু হবে না। ৫১ শতাংশ চান যথাযথ সংস্কারের পর নির্বাচন, আর ১৭ শতাংশ চান কিছু জরুরি সংস্কারের পর ভোট। জাতীয় নির্বাচন ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে হওয়া উচিত বলে মত দিয়েছেন ৩২ শতাংশ। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন চান ১২ শতাংশ, জুনের মধ্যে ১১ শতাংশ এবং ডিসেম্বর ২০২৬ বা পরে চান ২৫ শতাংশ।

সৈয়দা সেলিনা আজিজ বলেন, বর্তমানে সমস্যার ধরন বহুমাত্রিক এবং অর্থনীতির একতরফা প্রভাব কিছুটা কমেছে। এখন সমস্যার কেন্দ্রে রয়েছে রাজনীতির সঙ্গে সম্পর্কিত বিষয়, যেমন—আইনশৃঙ্খলার অবনতি, রাজনৈতিক অস্থিরতা ও অস্থিতিশীলতা। এসব কারণে অন্তর্বর্তী সরকারের গ্রহণযোগ্যতা হ্রাস পেয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ‘মানুষ এই অস্থিতিশীলতার সমাধান খুঁজছে মূলত দুটি পথে—নির্বাচন ও সংস্কার। যদিও জনগণ নির্বাচনমুখী, তবে এখনও একটি বড় অংশ সিদ্ধান্তহীন। উপযুক্ত প্রার্থী মনোনয়ন ভোটের ফলাফল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।’

সর্বশেষ সংবাদ
- Advertisement -spot_img
আরও নিউজ