বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য অ্যাডভোকেট মো. ফজলুর রহমান দলের দেওয়া কারণ দর্শানোর নোটিশের জবাব জমা দিয়েছেন। মঙ্গলবার (২৬ জুলাই) বিকেলে তিনি দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভীর বরাবর লিখিত জবাব দেন।
তিনি জানান, তাকে নোটিশের জবাব দিতে মঙ্গলবার বিকেল ৪টা পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়েছিল। তার প্রতিনিধি সাড়ে ৩টার দিকে নয়াপল্টন কার্যালয়ে জবাব জমা দেন। নোটিশ হাতে পাওয়ার পর সময় বৃদ্ধির সুযোগ দেওয়ায় তিনি কৃতজ্ঞতাও প্রকাশ করেছেন।
নিজের জবাবে ফজলুর রহমান বলেন, তিনি কখনো কুরুচিপূর্ণ বা বিভ্রান্তিকর বক্তব্য দেননি। বরং জুলাই–আগস্টের শহীদদের প্রতি সর্বোচ্চ শ্রদ্ধা জানিয়ে আসছেন। রংপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে শহীদ আবু সাইদ হত্যাকাণ্ডের পর তিনিই প্রথম তাকে একুশ শতকের “বীরশ্রেষ্ঠ” হিসেবে অভিহিত করেছিলেন।
ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি দাবি করেন, তিনি একজন দৃঢ়বিশ্বাসী মুসলমান। ইসলাম ও আল্লাহ-রাসুলের প্রতি তার অটল আস্থা রয়েছে। তবে জামায়াতে ইসলামীসহ ধর্মের ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে তিনি সবসময় রাজনৈতিকভাবে কথা বলেছেন এবং ভবিষ্যতেও বলবেন।
তিনি আরও জানান, কোটা আন্দোলন শুরুর সময় ছাত্রদের গণতন্ত্রের আন্দোলনে অংশগ্রহণে উৎসাহিত করেছিলেন। জুলাই আন্দোলন ও বিএনপির দীর্ঘ সংগ্রামে তিনি সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন। তার অভিযোগ, শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর জামায়াত-শিবির নিজেদের “জুলাই আন্দোলনের ভ্যানগার্ড” দাবি করে ইতিহাস বিকৃতির চেষ্টা করছে। মুক্তিযুদ্ধ অস্বীকারের প্রবণতার বিরুদ্ধেও তিনি নিয়মিত কথা বলেছেন এবং জামায়াত-শিবিরকে “কালো শক্তি” হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।
ফজলুর রহমান বলেন, বিএনপি দীর্ঘদিন আন্দোলনের জমি তৈরি করেছে, কিন্তু ধান কাটার সময় জামায়াত ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্ররা সেটি কেটে নিয়েছে। তিনি স্পষ্ট করে জানান, জাতীয়তাবাদী দলের প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি এসব বক্তব্য দিয়েছেন। কিছু বক্তব্যে যদি ভুলত্রুটি হয়ে থাকে তবে তিনি দুঃখ প্রকাশ করতে প্রস্তুত।
তিনি আরও আশ্বস্ত করেন যে দলের ক্ষতি হয় এমন কোনো কাজ তিনি কখনো করেননি এবং ভবিষ্যতেও করবেন না। বিএনপির নেতৃত্বের ওপর তার পূর্ণ আস্থা রয়েছে এবং দলের বৃহত্তর স্বার্থে সব সিদ্ধান্ত মেনে নেবেন।


