27.5 C
Dhaka
Sunday, June 14, 2026

ডাকসু নির্বাচনের অভিজ্ঞতা ভবিষ্যতের জাতীয় রাজনীতিতে প্রভাব ফেলবে: মাহমুদুর রহমান মান্না

advertisment
- Advertisement -spot_img

নাগরিক ঐক্যের সভাপতি ও ডাকসুর সাবেক ভিপি মাহমুদুর রহমান মান্না মনে করেন, ছাত্র আন্দোলন ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনের অভিজ্ঞতা ভবিষ্যতের জাতীয় রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে। তার মতে, নতুন প্রজন্ম দুর্বৃত্তায়িত ও চাঁদাবাজ রাজনীতি প্রত্যাখ্যান করে গণতান্ত্রিক সংস্কারের মাধ্যমে পরিবর্তনের দাবি তুলছে।

বুধবার (১০ সেপ্টেম্বর) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ) মিলনায়তনে ‘বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণ: সংস্কার বাস্তবায়নের পথরেখা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন। অনুষ্ঠানের আয়োজন করে গণতন্ত্র মঞ্চ।

মান্না বলেন, রাজনীতি যদি শুধুই মিথ্যাচার, চাঁদাবাজি আর ক্ষমতা দখলের প্রতিযোগিতায় সীমাবদ্ধ থাকে, তবে তা টেকসই হবে না। তবে এখনো রাজনৈতিক দলগুলোর ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ আছে, কারণ জনগণ বিকল্প খুঁজছে।

ডাকসু নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ৩০–৪০ বছর আগে অনেক রাজনৈতিক দল খোলা মাঠে দাঁড়াতে পারত না, বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরি হতো। অথচ এখন সেই দলগুলোও দৃশ্যমানভাবে সামনে এসেছে, আর বড় দলগুলো নতুন প্রজন্মের বুদ্ধিবৃত্তিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছে।

তিনি উল্লেখ করেন, এবার স্বতন্ত্র প্রার্থীরা সাহস দেখিয়েছে, যা অতীতে সম্ভব হয়নি। এখন আর বড় জনসভা নয়, বরং সাইবার প্রচারণা ও নতুন প্রজন্মের চিন্তাভাবনা রাজনীতিকে প্রভাবিত করছে। তারা ‘বড় ভাই সংস্কৃতি’ বা দখলদারির রাজনীতি প্রত্যাখ্যান করে রাজনীতিকে সংগ্রাম ও অঙ্গীকারের জায়গা হিসেবে দেখছে, ক্ষমতার শর্টকাট হিসেবে নয়।

মান্নার মতে, ছাত্ররা ভিন্ন উদাহরণ সৃষ্টি করেছে। ভবিষ্যতে সুষ্ঠু নির্বাচন কেবল ঐক্য ও সংস্কারের মাধ্যমেই সম্ভব হবে। সংকট নিরসনে সুপ্রিম কোর্টের রায় গ্রহণযোগ্য সমাধান হতে পারে এবং তা সবাইকে মানতে হবে। তিনি বলেন, রাজনীতি হালকাভাবে নেওয়ার বিষয় নয়, এটি মানুষের জীবনের সঙ্গে জড়িত সংগ্রাম। সৎ, অংশগ্রহণমূলক ও সংস্কারমুখী রাজনীতিই ভবিষ্যতের উন্নত রাজনৈতিক সংস্কৃতির ভিত্তি।

তবে জাতীয় রাজনীতিতে ডাকসুর প্রভাব নিয়ে ভিন্নমতও এসেছে। বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেন, ডাকসুর ফল যদি অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়েও প্রতিফলিত হয়, তবুও তা জাতীয় রাজনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে না। কারণ ৩২ হাজার ভোট জাতীয় নির্বাচনের ১২ কোটি ৬০ লাখ ভোটের তুলনায় এক ফোঁটার মতো।

জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের সাধারণ সম্পাদক শহীদ উদ্দিন মাহমুদ স্বপন বলেন, স্বৈরশাসনের মধ্য দিয়ে দুর্বৃত্তায়িত শাসন ও লুণ্ঠনতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গঠনের জন্য কাঠামো ও আইনগত সংস্কার প্রয়োজন। তিনি অভিযোগ করেন, জুলাই আন্দোলনের আকাঙ্ক্ষা বর্তমান সরকার ও রাজনৈতিক নেতারা কেবল একটি সম্ভ্রান্ত রাজনৈতিক পরিবারকে টিকিয়ে রাখার জন্য ব্যবহার করছে।

আলোচনায় আরও অংশ নেন রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক হাসনাত কাইয়ুম, অর্থ সমন্বয়ক দিদারুল ভূঁইয়া, গণসংহতি আন্দোলনের নির্বাহী সমন্বয়কারী আবুল হাসান রুবেল, নাগরিক ঐক্যের সাধারণ সম্পাদক শহীদুল্লাহ কায়সার, ভাসানী জনশক্তি পার্টির মহাসচিব আবু ইউসুফ সেলিম, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির রাজনৈতিক পরিষদ সদস্য আকবর খান এবং রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের মিডিয়া ও প্রচার সমন্বয়ক সৈয়দ হাসিবউদ্দীন হোসেন।

সর্বশেষ সংবাদ
- Advertisement -spot_img
আরও নিউজ