ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম বলেছেন, সংখ্যানুপাতিক (পিআর) পদ্ধতিতে জাতীয় নির্বাচন আয়োজন করা উচিত। তিনি বলেন, জুলাইয়ের আন্দোলন কেবল ক্ষমতার পালাবদলের জন্য হয়নি—এটি দেশের স্থায়ী স্বৈরতন্ত্র প্রতিহত করে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা ও রাষ্ট্রের পরতে-পরতে জমে থাকা জঞ্জাল দূর করার লক্ষ্যে ছিল।
সোমবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে পুরানা পল্টন আইএবি মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
রেজাউল করীম বলেন, জুলাইয়ে যারা জীবন বাজি রেখেছেন, যারা আহত ও অনাহুতদের ত্যাগ দেখেছেন, তারা এই পরিস্থিতি মেনে নেবে না। তাই রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে আলাপ-আলোচনা চালিয়ে জুলাইয়ের প্রত্যাশা বাস্তবায়নে সুনির্দিষ্ট দাবি নিয়েই জোটবদ্ধ আন্দোলনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, ১৪ মাস অতিক্রম হলেও জুলাই সনদ ঘোষণায় অগ্রগতি নেই; কিছু গুরুত্বপূর্ণ আইনি সংস্কারে প্রতিবন্ধকতা হচ্ছে। ফলত কিছু প্রস্তাব নোট অব ডিসেন্টসহ অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় সনদ কার্যত বিভক্ত মতামতের দলিলে পরিণত হয়েছে—যা প্রত্যাশিত ফল দেয়নি।
মুফতি রেজাউল করীম দাবি করেন, জুলাই সনদকে আইনভিত্তিক না করলে নির্বাচনের পরে তা কার্যকর হবে না—তাই সনদকে এই মুহূর্তেই আইনি ভিত্তিতে বাস্তবায়ন করে সেটির ওপর ভিত্তিকভাবে জাতীয় নির্বাচন আয়োজন করতে হবে। অতীতের অভিজ্ঞতায় নির্বাচনের পরে কোনো পক্ষ প্রতিশ্রুতিগুলো নিশ্চিতভাবে বাস্তবায়ন করে না, তাই আগে থেকেই আইনি নিশ্চয়তা জরুরি।
ফ্যাসিবাদবিরোধী বিচার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে যে অপরাধগুলো হয়েছে তা শুধু স্বল্পপরিসরের অপরাধ নয়—এগুলো সংগঠিত ও বিস্তৃত, তাই যথাযথ মাত্রায় ও দ্রুত বিচার প্রয়োজন। বর্তমানে বিচারের গতি ও মাত্রা হতাশাজনক মনে হচ্ছে—অনেকে বাইরে পালিয়ে আছেন, স্থানীয় স্তরের নেতারা আবার এলাকায় ফিরে আসছে। তাই ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রম জেলা পর্যায়ে নেওয়া, পালিয়ে থাকা অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা ও পাচারকৃত অর্থ উদ্ধারে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহনের দাবি জানান তিনি।


