28 C
Dhaka
Saturday, June 13, 2026

সেফ এক্সিট: এনসিপি নেতাদের অভিযোগে উপদেষ্টাদের প্রতিক্রিয়া

advertisment
- Advertisement -spot_img

অন্তর্বর্তী সরকারের কিছু উপদেষ্টা সেফ এক্সিট বা নিরাপদে সরে যাওয়ার উপায় খুঁজছেন বলে অভিযোগ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দুই নেতা। হঠাৎ কেন তারা এই প্রসঙ্গ তুললেন, তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। এদিকে তাদের অভিযোগের পর গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন কয়েকজন উপদেষ্টা।

চলতি সপ্তাহের শুরুর দিকে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম একটি টেলিভিশনে সাক্ষাৎকারে সেফ এক্সিট প্রসঙ্গটি তুলেন। পরে এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমও একই বিষয়ে বক্তব্য দেন তাদের দলের এক সভায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ নিয়ে নানা আলোচনা দেখা গেছে।

এ প্রসঙ্গে এনসিপি সদস্য সচিব আখতার হোসেন বিবিসি বাংলাকে বলেন, উপদেষ্টাদের সেফ এক্সিট নিয়ে তার দলের নেতাদের বক্তব্য হলো এনসিপিরই সামগ্রিক বক্তব্য।

আখতার জানান, আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের বিচার ও সংস্কার গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা। সেটি পালনের দায়িত্ব নিয়েও তা না করে কোনো কোনো উপদেষ্টা তাদের দায়িত্ব থেকে পালিয়ে বাঁচতে চান। নাহিদ কিংবা সারজিস এই বিষয়টি উল্লেখ করেছেন। তবে সেফ এক্সিট প্রসঙ্গে তারা কোনো উপদেষ্টার নাম সুনির্দিষ্টভাবে বলেননি।

বুধবার (৯ অক্টোবর) দুপুরে সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে উপদেষ্টা রিজওয়ানা হাসান বলেন,

“সব রাজনৈতিক দলের মতো নতুন রাজনৈতিক দলের সঙ্গেও সরকারের ভালো একটি ওয়ার্কিং রিলেশনশিপ আছে। এটা উনি অভিমান থেকে বলেছেন নাকি কোনো বিষয়ে গ্রিভেন্স আছে, তা উনাকেই পরিষ্কার করতে হবে। উনি যদি কখনো পরিষ্কার করেন, তখন সরকারের বক্তব্য আসে; তার আগে সরকারের বক্তব্যের কোনো সুযোগ নেই।”

উপদেষ্টারা কি এক্সিট খুঁজছেন—এই প্রশ্নের জবাবে সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন,

“আমি একদম কোনো এক্সিট খুঁজছি না। দেশেই ছিলাম, এর আগেও বহু ঝড়ঝঞ্ঝা এসেছে। সেসব প্রতিহত করে দেশেই থেকেছি। বাকিটা জীবনও বাংলাদেশেই কাটাব।”

এদিকে বৃহস্পতিবার সকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্ট্যাটাস দিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান। স্ট্যাটাসের শিরোনাম ছিল, ‘উপদেষ্টার রোজনামচা, চালকের হেলমেট নাই, ও সেফ এক্সিট’।

স্ট্যাটাসের শেষের দিকে ফাওজুল কবির খান লিখেছেন,

“এ বিষয়টি উত্থাপনকারী, প্রাক্তন উপদেষ্টা ও বর্তমান এনসিপি নেতা নাহিদ ইসলাম আমার অত্যন্ত স্নেহভাজন ও জুলাই আন্দোলনের অগ্রসেনা হিসেবে শ্রদ্ধার পাত্র। তাই তার বক্তব্যের ওপর আমার মন্তব্য করা শোভন নয়। তাছাড়া আমি রাজনৈতিক বিষয়ে কোনো মন্তব্য করি না। নিজের সীমিত সামর্থ্যের সবটুকু ব্যবহার করে জনগণের প্রতি দায়িত্ব পালন করেছি। শিক্ষকতার সূত্রে পূর্বে যুক্তরাষ্ট্র ও সিঙ্গাপুরের স্থায়ী বাসিন্দা হওয়ার সুযোগ গ্রহণ করিনি। আজ ৭২+ বছর বয়সে আমাকে যদি সেফ এক্সিটের কথা ভাবতে হয়, তা হবে গভীর দুঃখের বিষয়।”

অন্যদিকে, মহিলা ও শিশু বিষয়ক উপদেষ্টা শারমিন এস মুরশিদ জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের বক্তব্যকে ‘রাজনৈতিক’ বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি একটি বেসরকারি টেলিভিশনকে বলেন,

“উপদেষ্টাদের সেফ এক্সিটের দরকার নেই। একটি বিশেষ পরিস্থিতিতে এই সরকার দায়িত্ব নিয়েছে। উপদেষ্টাদের সেফ এক্সিট বা নিরাপদ প্রস্থানের কোনো প্রয়োজন নেই।”

সর্বশেষ সংবাদ
- Advertisement -spot_img
আরও নিউজ