আগামী ১৩ নভেম্বর কোনো বাকশালপন্থীকে বাংলার রাজপথে নামতে দেয়া হবে না বলে ঘোষণা করেছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক।
মঙ্গলবার পল্টন মোড়ে সমমনা আট রাজনৈতিক দলের সমাবেশে তিনি বলেন, “যদি কেউ ওইদিন রাজপথে নামার অপচেষ্টা চালায়, আমরা তাদেরকে রাজপথে মোকাবিলা করব, ইনশাআল্লাহ।” ওই সমাবেশে জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নে সাংবিধানিক আদেশ জারি, নভেম্বর মাসেই গণভোট আয়োজন, নির্বাচনে সবার জন্য লেভেল প্লেইং ফিল্ড নিশ্চিতকরণসহ পাঁচ দফা দাবি উত্থাপিত হয়।
মামুনুল হক বলেন, ঐতিহাসিক পল্টন ময়দানে দাঁড়িয়ে তিনি স্পষ্টভাবে দেখতে পাচ্ছেন বাংলাদেশ দুই ভাগে বিভক্ত—এক পক্ষ ‘৭২-এর বাকশালপন্থী’ এবং অন্য পক্ষ ‘জুলাইয়ের বিপ্লব পন্থী’। তিনি বলেন, “৭২-এর পরাজিত বাকশালপন্থীরা আগামী ১৩ নভেম্বর বাংলাদেশের বিরুদ্ধে লকডাউনের নামে যুদ্ধের ঘোষণা দিয়েছে।”
তিনি আরো বলেন, “২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লব সহস্রাধিক তাজা প্রাণের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত একটি অর্জন। এই বিপ্লবের নীতিভিত্তিক রূপরেখা ও দেশের পরিচালনার জন্য তৈরি করা হয়েছে জুলাই সনদ; আমরা এটিকে কেবল কোনো কাগজপত্র হিসেবে দেখছি না, বরং ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের রূপরেখা হিসেবে গণ্য করতে চাই।” তাই দল হিসেবে দাবি করা হয়েছে—জুলাই সনদকে সরকারি আদেশের মাধ্যমে প্রাথমিক আইনি ভিত্তি দিতে হবে এবং আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে গণভোটে এটিকে চূড়ান্ত আইনি স্বীকৃতি দেয়া হবে।
তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, “জুলাই সনদের গণভোট ছাড়া যদি জাতীয় সংসদ নির্বাচন হয়ে থাকে বা তফসিল ঘোষিত হয়ে নির্বাচন ঘটিয়ে দেয়া হয়, সেখানে অনেক বড় জটিলতা সৃষ্টি হবে। যারা জুলাই সনদের গণভোট জাতীয় নির্বাচনের আগে করতে বাধা দিচ্ছে, তারা বাস্তবে বাংলাদেশে আবারো ফ্যাসিবাদ কায়েমের ষড়যন্ত্র করছে।”
মামুনুল হক বলেন, রাজনৈতিক মতভেদ থাকা স্বাভাবিক; তবে এখন প্রয়োজন ঐক্যবদ্ধ হয়ে জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি জোরালোভাবে কার্যকর করা—এজন্য হাতে হাত রেখে কাজ করবেন তারা। তিনি উল্লেখ করেন, আগামী ১৩ তারিখে সরকারের সিদ্ধান্তের প্রতি তাদের নজর থাকবে; যদি সরকার জনগণের শান্তিপ্রিয় দাবি বোঝার অক্ষমতা দেখায় এবং আট দলীয় নেতাদের শান্তিপ্রিয় ভাষা না গ্রহণ করে, তাহলে তারা “সরকার যে ভাষায় বোঝে” সেই ভাষায় কর্মসূচি প্রয়োগ করবে। তিনি জানান, তারা প্রস্তুত।
সমাবেশে আরো বক্তব্য রাখেন— বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান; ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির মুফতি সৈয়দ মো. রেজাউল করিম (পীরসাহেব চরমোনাই); নেজামে ইসলাম পার্টির আমির অধ্যক্ষ মাওলানা সরওয়ার কামাল আজিজী; খেলাফত মজলিসের আমির অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুল বাসিত আজাদ; জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির সহ-সভাপতি ও মুখপাত্র প্রকৌশলী রাশেদ প্রধান; বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের আমির মাওলানা হাবীবুল্লাহ মিয়াজী; এবং বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির সভাপতি অ্যাডভোকেট আনোয়ারুল হক চাঁন।


