বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ দাবি করেছেন, কলকাতায় আওয়ামী লীগের একটি অফিস খুলে সেখানে বসেই সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে এবং সেখান থেকে লোকজনকে দেশে পাঠিয়ে আগুন–সন্ত্রাস করানো হচ্ছে।
শনিবার (১৫ নভেম্বর) দুপুরে ভোলা-৩ আসনে (লালমোহন–তজুমদ্দিন) বিএনপির মনোনয়ন পাওয়ায় লালমোহন উপজেলার শাহবাজপুর কলেজ মাঠে স্থানীয় বিএনপি আয়োজিত গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ অভিযোগ করেন।
হাফিজ উদ্দিন বলেন, “অনেক বড় বড় কথা শেখ হাসিনা বলতেন। বলতেন, তারা পালায় না—কোথায় এখন? সন্ত্রাসীদের দল মোদির আশ্রয়ে গেছে। কলকাতায় আওয়ামী লীগ অফিস খুলে বসে সন্ত্রাসের ট্রেনিং দিচ্ছে। অনেককে দেশে পাঠাচ্ছে আগুন দিতে।”
তিনি আরও বলেন, “আওয়ামী লীগ যদি অফিস খুলতেই চায়, তাহলে ভারতের যেসব প্রদেশ আছে—সবখানেই অফিস খুলুক। ভারত সরকারের অনুমতি নিয়ে ভারতে বসেই আন্দোলন করুক। বাংলাদেশে তাদের আর আসার দরকার নেই। এই সন্ত্রাসী আওয়ামী লীগকে আমরা আর দেখতে চাই না।”
অন্তর্বর্তী সরকার আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগকে নিষিদ্ধ করেছে দাবি করে বিএনপির এই নেতা বলেন, “তাদের পক্ষে আগামী ৩০–৪০ বছরে বাংলাদেশে ফেরা সম্ভব হবে না। রাস্তায় পেলে জনগণ পুলিশে দিলে পুলিশ ব্যবস্থা নেবে। গত ১৭ বছরে তারা লুটপাট করেছে, বহু মায়ের কোল খালি করেছে—এটার অবসান জরুরি।”
শেখ হাসিনার শাসনকে “দুঃশাসন” আখ্যা দিয়ে তিনি আরও বলেন, “আয়নাঘর বানিয়ে বিএনপি–বিরোধী নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষকে বছর বছর বন্দি করে রেখেছিল। তাদের অপরাধ ছিল—ভোট দিতে চাওয়া, গণতন্ত্র চাওয়া, কথা বলার অধিকার চাওয়া।”
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে ধানের শীষের পক্ষে কাজ করার আহ্বান জানান হাফিজ উদ্দিন।
গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন লালমোহন উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. জাফর ইকবাল এবং সঞ্চালনা করেন উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. শফিকুল ইসলাম বাবুল।


