ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় অভিযোগ করেছেন, বাংলাদেশের দুই বড় রাজনৈতিক দলের নেতৃত্ব পরিবর্তনে বিদেশ থেকে একটি ‘অগণতান্ত্রিক খেলা’ চলছে। বিবিসি বাংলাকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ এবং বিএনপি—উভয় দলের পরবর্তী নেতৃত্ব ঠিক করতে বিদেশি মহল ও কিছু দেশের প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা চলছে।
তবে তিনি ‘খেলা’ বলতে কী বোঝাচ্ছেন বা কোন দেশ বা শক্তি জড়িত—সে বিষয়ে স্পষ্ট করে কিছু জানাননি।
‘পরিবার থেকে কেউ নেতৃত্বে আসবে না’
জয় বলেন, শেখ হাসিনার পর তার পরিবারের কেউ আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে আসবেন—এমন সম্ভাবনা নেই। নেতৃত্ব ঠিক করবে দল এবং নেতাকর্মীরা।
তার ভাষায়, “আমরা একটি গণতান্ত্রিক দল। ওপর থেকে চাপিয়ে দেওয়া নেতৃত্ব আমরা মানি না।”
সাম্প্রতিক সময়ে ‘রিফাইন্ড আওয়ামী লীগ’ ধারণা নিয়ে যে আলোচনা চলছে, সেটিকে তিনি ‘ওয়ান-ইলেভেনের পুনরাবৃত্তি’ বলে উল্লেখ করেন। তার দাবি, বিদেশি কিছু দেশ, কিছু শক্তি এবং দেশের কিছু সুশীল সমাজ মিলে এই চিন্তা সামনে আনছে।
জুলাই অভ্যুত্থানের পর সংকটে আওয়ামী লীগ
৫ আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানের পর আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতৃত্ব কারাগারে বা আত্মগোপনে। দলটি কার্যত নিষিদ্ধ অবস্থায় রয়েছে। আদালতে বিভিন্ন মামলায় শেখ হাসিনার দণ্ডের পর ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব নিয়ে আলোচনা আরও বেড়েছে।
জয় জানান, শেখ হাসিনা তাকে নেতৃত্ব বিবেচনার কথা বলেছেন। কিন্তু তার দাবি, “আমি রাজনীতি করতে চাইনি। এখন আমার ভূমিকা গণতন্ত্র ও শান্তি ফিরিয়ে আনা।”
তিনি বলেন, দলের নেতৃত্ব এখনো শেখ হাসিনার হাতেই ঐক্যবদ্ধ, যদিও নেতাকর্মীরা বিচ্ছিন্ন অবস্থায় আছেন।
পরিবারের নেতৃত্বের সম্ভাবনা?
তৃণমূলে আলোচনা আছে—মুজিব পরিবারের কেউ ভবিষ্যতে নেতৃত্ব নিতে পারেন। সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের নামও আলোচনায়। তবে জয় বলেন, তার বোনের রাজনীতিতে তেমন আগ্রহ নেই।
তার দাবি, পরিবারকে রাজনীতি থেকে দূরে রাখতে এবং নির্বাচন অযোগ্য করতে মিথ্যা মামলায় সাজা দেওয়া হচ্ছে।
নির্বাচন ও ভবিষ্যৎ রাজনীতি
২০২৬ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে বাইরে রাখা হতে পারে—এমন সম্ভাবনার কথাও উঠে এসেছে সাক্ষাৎকারে। জয় বলেন—
“দেশের অর্ধেক ভোটারকে বাদ দিয়ে সাজানো নির্বাচন হতে দেব না। আমাদের সামনে আন্দোলন ছাড়া আর পথ নেই।”
জুলাই আন্দোলনে নিহতদের বিষয়ে প্রশ্নে জয় আওয়ামী লীগের ভুল স্বীকার করেন, তবে সেদিকের তদন্তের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন। তিনি অভিযোগ করেন—৫ আগস্টের পরের সহিংসতার ঘটনায় বর্তমান সরকার দায়ীদের ইনডেমনিটি দিয়েছে।


