18 C
Dhaka
Thursday, January 15, 2026

যারা পাথর মেরে মানুষ হত্যা করে, আমরা সবসময় তাদের বিরুদ্ধে: ছাত্রশিবির সভাপতি

advertisment
- Advertisement -spot_img

ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদুল ইসলাম বলেছেন, “আমরা কোনো ব্যক্তি বা দলের বিরুদ্ধে নই; কিন্তু যারা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালায়, পাথর মেরে মানুষ হত্যা করে, মনোনয়ন না পেয়ে নিজেদের কর্মীকে হত্যা করে এবং চাঁদাবাজি–টেন্ডারবাজি–লুটপাটে লিপ্ত থাকে—আমরা সবসময় তাদের বিরুদ্ধেই দাঁড়াবো।”

বৃহস্পতিবার (১১ ডিসেম্বর) চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি ও ভূজপুর উন্নয়ন ফোরামের আয়োজনে ছাত্র ও যুব সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জাহিদুল ইসলাম বলেন, ফটিকছড়িতে ছাত্রশিবিরের বহু কর্মী রক্ত দিয়েছেন, তাদের ত্যাগ কখনো ভুলবেন না।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, একসময় ধানভরা গোলা ও পুকুরভরা মাছ ছিল বাংলাদেশে, কিন্তু শেখ মুজিবের ‘জুলুমতন্ত্র ও লুটপাটের’ কারণে দেশে দুর্ভিক্ষ দেখা দেয়। শেখ হাসিনার সময়ে সেনা কর্মকর্তা, আলেম ও সাধারণ মানুষ হত্যার শিকার হয়েছেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

বাংলাদেশের স্বাধীনতা নানা সময়ে বাধাগ্রস্ত হয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, ব্রিটিশ আমল থেকেই দেশি–বিদেশি শক্তি বাংলাদেশকে নির্ভরশীল করে রাখার ষড়যন্ত্র চালিয়েছে।

গোলাম হোসেনের সভাপতিত্বে আয়োজিত এই সমাবেশে প্রধান বক্তা ছিলেন চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী অধ্যক্ষ মুহাম্মদ নুরুল আমিন। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ছাত্রশিবিরের চট্টগ্রাম মহানগরী উত্তর সভাপতি তানজির হোসেন জুয়েল, দক্ষিণের সভাপতি মাইনুল ইসলাম মামুন, চবি শাখার সভাপতি মোহাম্মদ আলি, উত্তর জেলা ছাত্রশিবির সভাপতি শওকত আলী ও উত্তর জেলা জামায়াত সেক্রেটারি আব্দুল জব্বার।

ইসলামী ছাত্রশিবির প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই সৎ, দক্ষ ও দেশপ্রেমিক নাগরিক তৈরির কাজ করছে উল্লেখ করে জাহিদুল ইসলাম বলেন, বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ আন্দোলনগুলোতে ছাত্রশিবির ঐতিহাসিক ভূমিকা রেখেছে। স্বাধীনতার পর ইনসাফ, মানবিকতা ও সাম্যের লক্ষ্য পূরণ হয়নি বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

২০২৪ সালের ছাত্র আন্দোলন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, শেখ হাসিনার ‘অত্যাচারের’ ধারাবাহিকতা ছাত্র আন্দোলনের মাধ্যমে চূড়ান্ত রূপ পায়। “আমাদের ভাই–বোনেরা আবাবিলের ঝাঁকের মতো রাস্তায় নেমে জীবন দিয়েছিলেন। তাদের ত্যাগেই ৫ আগস্ট, ৩৬ জুলাই নতুন স্বাধীনতার সূর্য উদিত হয়েছে”—বলেন জাহিদুল ইসলাম।

তরুণ প্রজন্মকে মাদক ও সামাজিক অবক্ষয় থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি দাবি করেন, দেশি–বিদেশি শক্তি যুব সমাজকে নষ্ট করার চেষ্টা করছে, সীমান্ত এলাকায় মাদকের কারখানা স্থাপন করা হয়েছে।

সমাবেশে নুরুল আমিন তার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি তুলে ধরে বলেন, নির্বাচিত হলে ফটিকছড়িতে ১৭টি অগ্রাধিকারমূলক উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করবেন—যার মধ্যে রয়েছে দুটি আধুনিক স্টেডিয়াম, দুটি ফায়ার স্টেশন, নতুন হাসপাতাল, এক হাজার কিলোমিটার সড়ক–সেতু উন্নয়ন, বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহ উন্নয়ন, বাজার আধুনিকায়ন, প্রবাসী সেবা কেন্দ্র, কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বৃদ্ধি, শিল্পাঞ্চল ও পর্যটন উন্নয়ন, চা–শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়ন এবং কৃষিপণ্যের কোল্ড স্টোরেজ নির্মাণ।

চাকসু ভিপি ইব্রাহিম হোসেন রনি বলেন, নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার মাধ্যমে বহু প্রতীক্ষিত নির্বাচন সামনে এসেছে। তিনি প্রবাসী ভোটারদের শুভেচ্ছা জানান এবং ২০০৮ থেকে শুরু হওয়া আন্দোলনে নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান।

সর্বশেষ সংবাদ
- Advertisement -spot_img
আরও নিউজ