27.5 C
Dhaka
Sunday, June 14, 2026

মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করলেও জামায়াতে ইসলামী পাকিস্তানের হয়ে যুদ্ধে অংশ নেয়নি – অলি আহমদ

advertisment
- Advertisement -spot_img

শনিবার (১৯ অক্টোবর) প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে তার সরকারি বাসভবন যমুনায় সংলাপ শেষে সাংবাদিকদের কাছে এই মন্তব্য করেন তিনি।


মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষ নেতাদের যেভাবে ফাঁসিতে ঝোলানো হয়েছে, ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের নেতাদেরও একই সাজা দেয়ার দাবিও জানান অলি আহমদ।


পাশাপাশি ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ‘গণহত্যা’ চালানোর অভিযোগ এনে আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধেরও দাবি তুলে ধরেছেন তিনি।


প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সংলাপে কী বলেছেন- এই প্রশ্নে অলি আহমদ বলেন, ‘একাত্তরের যুদ্ধাপরাধে জামায়াত নেতাদের তো ফাঁসি হয়েছে। এখন ওদেরকে (আওয়ামী লীগ) ফাঁসি দিতে হবে। জামায়াতকে তো ফাঁসি দিয়েছেন, এখন আওয়ামী লীগকে ফাঁসি দেন। এটা আপনাদের দায়িত্ব।’


তিনি বলেন, ‘আমরা মনে করি, ১৯৭১ সালে জামায়াতে ইসলামি মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করেছিল, তারা পাকিস্তানের হয়ে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেনি। সেদিন আমরা তাদেরকে নিষিদ্ধ করেছিলাম। আজকে কী কারণে আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করা হবে না?’

এলডিপি প্রেসিডেন্ট বলেন,


আমরা আজকে আবার বলেছি, আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করতে হবে। তারা ১৮ কোটি মানুষের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছে। তাদের এখানে রাজনীতি করার কোনো অধিকার নাই।

সংলাপে এবার প্রধান উপদেষ্টাকে ২৩টি প্রস্তাব দেয়ার কথা তুলে ধরেন এলডিপি নেতা অলি আহমদ। বলেন, ‘দুই দফা সংলাপের প্রথমবারে ১০৩ দফা প্রস্তাব দিয়েছিলাম। দ্বিতীয় দফায় আরও ২৩টি প্রস্তাব দিয়েছি। এসব প্রস্তাব কাউকে সুবিধা দেয়ার জন্য নয়, কাউকে জেল থেকে মুক্ত করার জন্য নয়, দেশের জনগণের জন্য দিয়েছি।’


তিনি জানান, এসব প্রস্তাবের মধ্যে অবাধ, সুষ্ঠু নির্বাচন এবং সুন্দর প্রশাসন চালানোর জন্য, ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার জন্য, নিত্যপণ্যের বাজার ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে আনার মতো বিষয়গুলো রয়েছে।

২০১৮ সালে রাতের ভোটের নির্বাচনের সঙ্গে যারা যুক্ত তাদেরকে সরকার থেকে বের করে দেয়ারও দাবি জানিয়েছে এলডিপি।

অলি আহমদ বলেন, ‘আমরা সরকারকে সাহসিকতার সঙ্গে এগিয়ে যেতে বলেছি। যা যা করতে হয়, কঠোর হাতে দমন করতে হবে।’

নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘ঘরটা আগে বানাই। নির্বাচন করে করবেন কী, যদি সব চোর থেকে যায়। সংস্কারের পর নির্বাচন করতে হবে।’


এদিন বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে যমুনায় প্রবেশ করে ড. কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রমের নেতৃত্বাধীন এলডিপির প্রতিনিধি দলটি।

এর আগে সংলাপে বসতে বিকেল পৌনে ৩টার দিকে ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে যমুনায় প্রবেশ করে গণফোরামের ৯ সদস্যের প্রতিনিধি দল। প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে দলটি আধা ঘণ্টার সংলাপ করে।

একইদিন আরও পাঁচটি দল ও জোট প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সংলাপে বসার কথা। এগুলো হলো: লেবার পার্টি, ১২ দলীয় জোট, আন্দালিব রহমান পার্থর নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি, জাতীয়তাবাদী সমমনা জোট ও গণতান্ত্রিক মুক্তি কাউন্সিল।

সর্বশেষ সংবাদ
- Advertisement -spot_img
আরও নিউজ