ভারত সরকার তাদের পররাষ্ট্র সচিব বিক্রম মিসরিকে আগামী ১০ ডিসেম্বর বাংলাদেশে পাঠানোর পরিকল্পনা করেছে। এ সফরের মূল লক্ষ্য বাংলাদেশের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও জোরদার করা।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমস জানিয়েছে, বিক্রম মিসরির এ সফর এমন একটি সময়ে হতে যাচ্ছে, যখন বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক বেশ কয়েকটি ইস্যুতে উত্তেজনার মধ্যে রয়েছে। এটি নোবেল বিজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতায় আসার পর কোনো ভারতীয় সিনিয়র কর্মকর্তার প্রথম ঢাকা সফর।
ঢাকা এবং দিল্লিতে এ সফরের প্রস্তুতি চলছে বলে বিষয়টি সম্পর্কে অবগত কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। যদিও এখনো কোনো পক্ষ আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়নি। ধারণা করা হচ্ছে, পররাষ্ট্র সচিব পর্যায়ের বার্ষিক আলোচনায় উভয় দেশের মধ্যে উন্নয়ন প্রকল্প, ভিসা ব্যবস্থা সহজীকরণ, নতুন ফ্লাইট চালু, এবং বাণিজ্য ও বিনিয়োগ নিয়ে আলোচনা হবে।
সফরটি এমন এক সময়ে হচ্ছে, যখন ভারতীয় কিছু রাজ্যে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ দেখা গেছে। সম্প্রতি ত্রিপুরার রাজধানী আগরতলায় বাংলাদেশের সহকারী হাইকমিশনে হামলা এবং জাতীয় পতাকা অবমাননার ঘটনায় বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কড়া প্রতিবাদ জানিয়ে দিল্লিতে ভারতের রাষ্ট্রদূতকে তলব করে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই সফর দুই দেশের মধ্যকার সম্পর্ককে পুনর্গঠনের একটি বড় সুযোগ। বাংলাদেশ এ সফরের বিষয়ে আগ্রহী, কারণ এটি সম্পর্কের উত্তেজনা কমিয়ে স্বাভাবিক করার একটি পদক্ষেপ হতে পারে। বিক্রম মিসরির সফরের সময় ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গেও বৈঠক হতে পারে বলে আভাস পাওয়া গেছে।
এর আগে ২০২৩ সালের নভেম্বরে দিল্লিতে দুই দেশের পররাষ্ট্র সচিব পর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছিল। এবারকার আলোচনায় আরও কার্যকর সহযোগিতার পথ খুঁজে বের করার পাশাপাশি পুরোনো সমস্যাগুলো সমাধানে গুরুত্ব দেওয়া হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ভারতীয় পররাষ্ট্র সচিবের এই সফর দুই দেশের সম্পর্ককে নতুন দিকনির্দেশনা দিতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।


