বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, জুলাই-আগস্টের চূড়ান্ত আন্দোলন হলো গত ১৫ বছরে গণতন্ত্রকামী রাজনৈতিক দলগুলোর সংগ্রামের বহিঃপ্রকাশ। এই সময়ে অনেক নেতা নিখোঁজ বা হারিয়ে গেছেন, কিন্তু তাদের আন্দোলনের চূড়ান্ত পরিণতি আমরা দেখেছি। তিনি উপদেষ্টাদের উদ্দেশে বলেন, “যতদিন দায়িত্বে আছেন, মানুষের কল্যাণে কাজ করুন।”
সোমবার (১৭ মার্চ) দুপুরে রাজধানীর নয়া পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে মহিলা দলের আয়োজিত এক বিক্ষোভ সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন। সারা দেশে নারী নির্যাতন ও ধর্ষণের বিচার দাবিতে এই কর্মসূচি আয়োজন করা হয়।
রিজভী বলেন, “গত ১৫ বছরে অনেক নেতা হারিয়ে গেছেন— ইলিয়াস আলী নেই, চৌধুরী আলম নেই, সুমন নেই। তারা গণতন্ত্র ও সুষ্ঠু নির্বাচনের দাবিতে সোচ্চার ছিলেন, ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করেছেন, তাই তাদের জীবন দিতে হয়েছে। সেই আন্দোলনের চূড়ান্ত প্রকাশ আমরা দেখেছি, যখন শিশু-তরুণ-কিশোররা রাস্তায় নেমে নিজেদের জীবন দিয়ে পরিবর্তন এনেছে।”
তিনি আরও বলেন, “আমি উপদেষ্টাদের বলব, এখনো সময় আছে, মানুষের কল্যাণে কাজ করুন। দেশে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম লাগামহীন হয়ে গেছে— মিনিকেট চাল ৮৫ টাকা কেজি, মোটা চাল ৫৬-৫৭ টাকা। এসবের দিকে নজর দিন।”
রিজভী আরও বলেন, “ড. মুহাম্মদ ইউনূস, আপনি এখন প্রধান উপদেষ্টা… জনগণ আপনার ওপর বিশ্বাস রেখেছে। আমাদের প্রত্যাশা, আপনার নেতৃত্বে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত হবে।”
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমান বলেন, “আমরা দেখেছি, নুসরাত পারুলসহ অনেক নারী ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, কিন্তু অপরাধীরা বিচারহীন থেকে গেছে। যারা গুম-খুন-হত্যার পেছনে ছিল, তারাই তখন শাসনযন্ত্র পরিচালনা করেছে। আজ আমরা দায়িত্ব তুলে দিয়েছি এমন একজনের হাতে, যাকে শান্তির প্রতীক বলে মনে করি। আমরা আশা করি, তার নেতৃত্বে দেশ নিরাপদ হবে, মা-বোনেরা নির্ভয়ে চলতে পারবে, সবাই মুক্তভাবে কথা বলতে পারবে।”
তিনি আরও বলেন, “গত চার বছরে ৭ হাজার শিশুসহ ৪৩ হাজার নারী ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। এসব ঘটনার বিচার হয়নি। মাগুরার শিশু আছিয়া হত্যার পর যেন এক ভয়াবহ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছিল— মাত্র এক সপ্তাহের মধ্যে ১১ জন নারী ও শিশু ধর্ষণের শিকার হয়। এর পেছনে মূল কারণ কী?”
বিক্ষোভ সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন মহিলা দলের সভানেত্রী আফরোজা আব্বাস। আরও বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আহমেদ, হেলেন জেরিন খান, জেবা খানসহ মহিলা দলের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
সুত্রা২৪


