34.5 C
Dhaka
Wednesday, June 17, 2026

কৃষকের বাড়ি পুড়িয়ে বিএনপি নেতা বললেন, ‘যদি তোকে মেরে ফেলি, কী করবি’

advertisment
- Advertisement -spot_img

রংপুরের পীরগাছা উপজেলার পারুল ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি রেজাউলের নেতৃত্বে কৃষকের বাড়ি ভাঙচুর ও লুটপাটের পর আগুন দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় বিএনপির নেতাকর্মীদের নামে থানায় মামলা করার পর ভুক্তভোগীকে হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

আজ বুধবার সন্ধ্যায় বিএনপির দলীয় নেতাকর্মীদের নামে মামলা হওয়ার বিষয়টি আমাদের সময়কে নিশ্চিত করেছেন পীরগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নূরে আলম সিদ্দিকী।

এর আগে গত ৩ এপ্রিল ভুক্তভোগী কৃষক মোসলিম মিয়া বাদী হয়ে এজাহারনামীয় ১৪ জনসহ অজ্ঞাত ২০-৩০ জন বিএনপির নেতাকর্মীদের নামে মামলা দায়ের করেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, পীরগাছা উপজেলার পারুল ইউনিয়নের আনন্দি ধনিরাম এলাকার কৃষক মো. মোসলিম মিয়ার সঙ্গে ৬৫ শতক জমি নিয়ে প্রতিবেশী আজিজুর খানের ছেলে আলম খান গংয়ের সঙ্গে দীর্ঘ এক যুগের বেশি সময় ধরে দ্বন্দ্ব চলমান। গত বছরে বিরোধপূর্ণ জমি থেকে রাতের বেলা কৃষক মোসলিম মিয়ার ধান চুরি করে কেটে নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় আলম খান গংয়ের বিরুদ্ধে আদালতে একটি মামলা চলমান রয়েছে।

গত ২৯ মার্চ দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে প্রতিপক্ষের থেকে ৩ লাখ টাকার বিনিময়ে পারুল ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি রেজাউল ইসলাম রাজ্জাকের নেতৃত্বে ছাত্রদলের পারুল ইউনিয়ন সভাপতি মেহেদী হাসান, ইউনিয়ন যুবদলের সিনিয়র সহসভাপতি শফিউদ্দিন শফি, থানা শ্রমিক দলের সেক্রেটারি এনামুলসহ আনন্দি ধনিরাম এলাকার মো. আজিজুর রহমান, মো. আবু বকর খাঁন, মো. মামুন, মো. আলম, মো. বিপ্লব, বিরাহিম এলাকার মো. আফজাল হোসেন, মো. আমিনুল, দেউতি এলাকার মো. তাইজুল ইসলাম, মো. আফজাল হোসেন, মো. আজাদ মিয়াসহ অজ্ঞাত ২০-৩০ জন নেতাকর্মীরা ধারাল ছোরা, চাইনিজ কুড়াল, লাঠি, লোহার রড, দিয়াশলাই ইত্যাদি নিয়ে কৃষক মোসলিম মিয়ার বাড়ির লোকজন ঘুমন্ত থাকাকালে ভিতরে প্রবেশ করে উত্তর দুয়ারি ঘরে আগুন দেয়। আগুন দেখার পর কৃষক মোসলিম ও তার পরিবারের সদস্যরা ঘর থেকে বাইরে এলে বিএনপি নেতা রেজাউল হুকুম দেন, ‘শালাকে মেরে জীবন শেষ করিয়া দাও এবং বাড়িঘর পুড়িয়া ছাঁই করে দাও।’

এ সময় বিএনপি নেতাকর্মীদের আঘাতে কৃষক মোসলিমের ভাতিজা আশিকুর রহমান গুরুতর আহত হন। তিনি প্রথমে পীরগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নেন।

পারুল ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি রেজাউল ইসলাম রাজ্জাক

এ বিষয়ে ভুক্তভোগী কৃষক মো. মোসলিম মিয়া বলেন, ‘বিএনপির পারুল ইউনিয়ন সভাপতি রেজাউলের নেতৃত্বে আমার বসতবাড়ি উচ্ছেদ করার উদ্দেশ্যে পুড়িয়ে দেওয়া হলো, লুটপাট করা হলো। এ ঘটনায় মামলা দায়ের করার এক সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও পুলিশ কাউকে গ্রেপ্তার করল না। এখন শুনতেছি, ওদের থানা সভাপতি রাঙ্গা ওসিকে চাপ দিছে কেন এই মামলা থানায় হলো।’

তিনি আরও বলেন, ‘আসামিরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে। বিএনপি নেতা রেজাউল আমাকে হুমকি দিতেছে, “মামলা করে আমাদের বিএনপির নেতাকর্মীদের কিছুই করতে পারবি না। এখন যদি তোকে মেরে ফেলি, কী করবি?” ঘটনার সত্যটা আছে জন্যই তো ওরা এত ক্ষমতাবান হওয়ার পরও পুলিশ মামলা নিছে। কিন্তু এখন দেখতেছি আমি হয়তো আর ন্যায়বিচার পাব না। আমি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। আমি সরকারের কাছে ন্যায্য বিচার চাই।’

অভিযোগের বিষয়ে বিএনপির পারুল ইউনিয়ন সভাপতি রেজাউল ইসলাম রাজ্জাক বলেন, ‘মোসলিমের করা মামলায় ১৪ জন আসামিই আমাদের বিএনপির পরীক্ষিত নেতাকর্মী। আমি এ বিষয়ে কিছুই জানতাম না। মামলায় আমার নাম ও বাপের নাম ভুল আছে। তাই আমি বলছি এই ব্যক্তি আমি না। ঘটনার দিন পুলিশ এসে সাথে করে আমাকে ঘটনাস্থলে নিয়ে গিয়েছিল। পরে দেখি আমার নামে মামলা হয়েছে। আমার দলীয় নেতাকর্মীরা এটা নিয়ে অনেক কিছু করতে চাইছিল। আমি করতে দেইনি।’

বিএনপি নেতা আরও বলেন, ‘থানা নেতৃবৃন্দকে জানিয়েছি, তারা প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলেছে। আমি চাইলে বাদীকে অনেক কিছু করতে পারি। কিন্তু আমি আইনে বিশ্বাসী। এটি একটি মিথ্যা মামলা। এই মামলার অভিযোগপত্র থেকে খালাস পাব। আমার বিরোধী গ্রুপ বর্তমান নির্বাচিত দলীয় কমিটিকে প্রশ্নবিদ্ধ করার জন্য এই ষড়যন্ত্র করেছে।’

বিএনপির পীরগাছা উপজেলার সাধারণ সম্পাদক শরিফুল ইসলাম ডালেজ বলেন, ‘এ বিষয়ে আমি কিছু বলতে চাই না। তুমি আমার সঙ্গে সাক্ষাৎ করো। আর মামলার বিষয়ে আমি কিছুই জানি না।’

পীরগাছা উপজেলা বিএনপির সভাপতি আমিনুল ইসলাম রাঙ্গা বলেন, ‘ঘটনা জানার পরেই আমি খোঁজ-খবর নিয়েছি। আমার ইউনিয়ন সভাপতি রেজাউল এই ঘটনায় জড়িত ছিল না। অন্য কোনো দলীয় নেতাকর্মী জড়িত ছিল কি না সেটা আমার জানা নেই।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা প্রশাসনকে কোনো রকম চাপ প্রয়োগ করিনি। যারাই অভিযুক্ত আছে, তাদের নামে প্রশাসন চার্জশিট করে আদালতে জমা দিক। এতে আমাদের কোনো আপত্তি নেই।’

পীরগাছা থানার ওসি নূরে আলম সিদ্দিকী বলেন, ‘বসতবাড়িতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের রয়েছে। এ বিষয়ে তদন্ত চলমান রয়েছে। এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে তদন্ত করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হবে। আমাদের ওপরে কোনো রাজনৈতিক চাপ নেই।’

সর্বশেষ সংবাদ
- Advertisement -spot_img
আরও নিউজ