বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, “গণতান্ত্রিক দল হিসেবে বিএনপি নির্বাহী আদেশে কাউকে নিষিদ্ধ করার পক্ষে নয়। আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ আদালতই নির্ধারণ করুক।” একটি জাতীয় দৈনিককে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন।
আলোচনায় সালাউদ্দিন বলেন, বিএনপি প্রস্তাবিত ৩১ দফা রিকনসিলিয়েশন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে শান্তিপূর্ণ ও স্থিতিশীল রাষ্ট্র গঠনের লক্ষ্যে এগোচ্ছে। দক্ষিণ আফ্রিকার মডেলের উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, “শাস্তিমূলক ব্যবস্থা যত বেশি নেওয়া হবে, রাষ্ট্রে তত বেশি ভারসাম্যহীনতা তৈরি হবে। বরং রিকনসিলিয়েশনের মাধ্যমে শান্তিপূর্ণ সমাধানের দিকেই যাওয়া উচিত।”
আনুপাতিক পদ্ধতিতে উচ্চকক্ষ গঠনের বিষয়ে বিএনপির আপত্তির কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, এ ধরনের নির্বাচনে অনিশ্চয়তা থাকে এবং তা কার্যকর আইন প্রণয়ন ও সরকার গঠনে জটিলতা তৈরি করতে পারে। বিএনপি চায় কার্যকর উচ্চকক্ষ, তবে বাস্তবসম্মত পদ্ধতিতে।
তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রসঙ্গে সালাউদ্দিন বলেন, “চর্চার মাধ্যমে গণতন্ত্রের পরিপক্বতা না আসা পর্যন্ত তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থার প্রয়োজন রয়েছে। তবে বিচার বিভাগকে এতে না জড়ানোই ভালো।”
তিনি আরও বলেন, সংবিধান সংশোধনে জাতীয় ঐকমত্য গঠন করা যেতে পারে, তবে তা অবশ্যই সংসদে অনুমোদনের মাধ্যমেই করতে হবে। আগের সংশোধনীগুলোর ইতিহাস তুলে ধরে তিনি বলেন, “একাদশ সংশোধনী জাতীয় ঐকমত্যে আগেই কার্যকর হয়েছিল, তবে পরে সংসদের অনুমোদনও নেওয়া হয়েছিল।”
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে অভিযুক্তদের নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণা করার প্রস্তাবে বিএনপির বিরোধিতা নিয়ে প্রশ্নে সালাউদ্দিন বলেন, “বিচার ছাড়াই কাউকে নির্বাচনে অযোগ্য করা আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য নয়। আওয়ামী লীগই যদি এই আইনের আওতায় পড়ে, তাহলে বিএনপিই খুশি হতো। কিন্তু তা হতে হবে আইনসঙ্গতভাবে।”
তিনি জোর দিয়ে বলেন, “সংবিধানের ৪৭ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী বিচার সম্ভব, তবে তার জন্য আইন সংশোধন প্রয়োজন। সরকার সেই পদক্ষেপ থেকে সরে এসেছে। আমরা আবারও বলছি — আইন সংশোধন করুন, আদালত আওয়ামী লীগের ভাগ্য নির্ধারণ করুক।”
সুত্রা২৪


