অন্তর্বর্তী সরকার ও আগামী নির্বাচন প্রসঙ্গে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, “আমরা একটা রোডম্যাপ (পথনকশা) চেয়েছিলাম। ১০ মাস কেটে গেছে। আপনারা একটা রোডম্যাপ ছাড়া আর সবকিছু নিয়েই কথা বলেছেন। এই এড়িয়ে যাওয়াটা অন্তর্বর্তী সরকারের সদিচ্ছা নিয়ে গুরুতর প্রশ্নের জন্ম দেয়।”
বুধবার (২৮ মে) রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির তিন সংগঠন—ছাত্রদল, যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের উদ্যোগে আয়োজিত ‘তারুণ্যের রাজনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠার’ সমাবেশে জনতার ঢল নামে। রাত পৌনে ৮টার দিকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে কর্মসূচির একটি ছবি শেয়ার করে এ নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানান মির্জা ফখরুল।
ইংরেজি ভাষায় লেখা ওই পোস্টে তিনি বলেন, “প্রথম দিন থেকেই আমরা অধ্যাপক ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারকে শুধু সমর্থনই করিনি, তাদের সক্রিয়ভাবে সহযোগিতা করেছি। সংস্কারবিষয়ক প্রতিটি বৈঠকে অংশ নিয়েছি, আমাদের প্রস্তাব জমা দিয়েছি এবং যেখানে দ্বিমত পোষণ করেছি, সেখানে যুক্তিসহ ব্যাখ্যা দিয়েছি।”
তিনি আরও লেখেন, “আমরা সবসময় বলেছি, সংস্কার একটি চলমান প্রক্রিয়া। কোনো দেশেই সংস্কারের নামে সবকিছু থেমে যায় না এবং কোনো গণতান্ত্রিক দেশেই জনগণের সংসদ গঠনের প্রক্রিয়া সংস্কারের জন্য আটকে থাকে না।”
একনায়কতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা থেকে উত্তরণের প্রসঙ্গ টেনে মির্জা ফখরুল লেখেন, “আমরা যেন ভুলে না যাই, যে শাসনব্যবস্থা থেকে আমরা এসেছি তা শুধু কর্তৃত্ববাদীই ছিল না, ছিল একনায়কতান্ত্রিক। এখন জনগণ একটি নতুন, প্রতিনিধিত্বশীল সংসদের জন্য প্রস্তুত। এমন একটি সংসদ, যেখানে নির্বাচিত প্রতিনিধিরা দেশের উন্নয়ন, সংস্কার ও মানবাধিকারের বিষয়ে কথা বলবেন।”
তিনি বলেন, “আমরা রোডম্যাপ চেয়েছিলাম, ১০ মাস কেটে গেছে, অথচ এখনো তা আসেনি। এই এড়িয়ে যাওয়ার প্রবণতা আন্তরিক সদিচ্ছার ঘাটতি প্রমাণ করে। আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান পরিষ্কারভাবে বলেছেন, ডিসেম্বরেই নির্বাচন হতে হবে।”
এর আগে বিকেলে নয়াপল্টনে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতারা অন্তর্বর্তী সরকারের সমালোচনা করেন। লন্ডন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে বক্তব্য দেন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। যুবদলের সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্নার সভাপতিত্বে ও স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক রাজীব আহসান, ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম এবং সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত এই সমাবেশে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আবদুল মঈন খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও সালাহউদ্দিন আহমদ বক্তব্য দেন।


