ভারত এবং পাকিস্তান—দুটি চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দেশের মধ্যে টানাপোড়েন চলছেই। আসন্ন চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ভবিষ্যৎ নিয়ে বেশ জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে। টুর্নামেন্ট শুরুর জন্য আর মাত্র দুই মাসের কিছুটা বেশি সময় বাকি, কিন্তু এখনও পর্যন্ত ভেন্যু নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেনি আইসিসি (বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা)। এমনকি ম্যাচের সূচি প্রকাশেরও নির্ধারিত সময় পার হয়ে গেছে।
ভারতের পাকিস্তানে যাওয়ার প্রতি অনাগ্রহ এবং পাকিস্তানের হাইব্রিড মডেলে ভারতের ম্যাচ না হওয়ার বিরোধিতার কারণে এই সমস্যা তৈরি হয়েছে। তবে, আইসিসি শীঘ্রই এই জটিলতা সমাধানে একটি সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে। শুক্রবার ভার্চুয়াল বোর্ড মিটিংয়ে বিষয়টি নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসার সম্ভাবনা রয়েছে।
পাকিস্তানের সাবেক অধিনায়ক রশিদ লতিফ দাবি করেছেন, আইসিসি এবং ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই) পিসিবির (পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড) সঙ্গে একটি সমঝোতায় পৌঁছেছে। তার মতে, হাইব্রিড মডেলের আওতায় ভারতের ম্যাচগুলি পাকিস্তানে নয়, বরং দুবাইতে অনুষ্ঠিত হবে।
প্রসঙ্গত, ২০০৮ সালের পর থেকে পাকিস্তানে কোনো আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেনি ভারত। গত বছর এশিয়া কাপের জন্যও ভারত পাকিস্তানে যাওয়ার বিপক্ষে ছিল, এবং শেষে সেই টুর্নামেন্টের ভারতের ম্যাচগুলো শ্রীলঙ্কায় আয়োজন করা হয়।
পিসিবি চেয়ারম্যান মহসীন নকভী সম্প্রতি বলেছিলেন, তারা কোনও একতরফা সিদ্ধান্তে আসবে না। ভারতের খেলোয়াড়রা পাকিস্তানে খেলতে না এলে, পাকিস্তানও ভারত যেতে রাজি নয়। তবে, পিসিবি চেয়ারম্যানের কথার বিপরীতে রশিদ লতিফ মনে করছেন, পাকিস্তান শেষ পর্যন্ত হাইব্রিড মডেলেই রাজি হবে। তিনি জানান, এর জন্য পাকিস্তান মোটা অঙ্কের ক্ষতিপূরণ পাবে।
পাকিস্তান এই চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির আয়োজক দেশ হওয়ার পর, দেশটির স্টেডিয়ামগুলো সংস্কারের কাজও শুরু হয়েছে। আইসিসি ২০২১ সালে পাকিস্তানকে টুর্নামেন্টটি আয়োজনের দায়িত্ব দেয়। তবে, ভারতের অংশগ্রহণ না থাকলে, ভবিষ্যতে কোনো আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে ভারত না পাঠানোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে পিসিবি।
এখন, দুই দেশের মধ্যে এই জটিল পরিস্থিতি আইসিসিকে এক দারুণ চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে। শেষ সিদ্ধান্ত আসবে শুক্রবারের বোর্ড মিটিংয়ে, যেখানে সব কিছু স্পষ্ট হয়ে যাবে।


