16 C
Dhaka
Saturday, January 17, 2026

রিজার্ভ ছাড়াই দুই মাসে দেনা পরিশোধ ১.৫ বিলিয়ন ডলার

advertisment
- Advertisement -spot_img

বাংলাদেশ ব্যাংক গত দুই মাসে রিজার্ভের ওপর চাপ না বাড়িয়েই দেড় বিলিয়ন ডলার দেনা পরিশোধ করেছে। এতে করে তেল, গ্যাস, সারসহ গুরুত্বপূর্ণ পণ্যের আমদানিতে যে অনিশ্চয়তা ছিল, তা কিছুটা কমেছে। গভর্নর জানিয়েছেন, ডিসেম্বরের মধ্যে বাকি দায়ও পরিশোধের পর দেশের অর্থনীতি আরও সুস্থির হবে। তিনি জনগণকে পরামর্শ দিয়েছেন যে, এই সময়ে বিনিয়োগ বা প্রবৃদ্ধি নিয়ে উদ্বিগ্ন না হয়ে ধৈর্য্য ধরাই শ্রেয়।

বাংলাদেশের জ্বালানি তেল, গ্যাস ও অন্যান্য পেট্রোলিয়াম পণ্য সম্পূর্ণরূপে আমদানির উপর নির্ভরশীল, যার জন্য গত অর্থবছরে প্রায় ৯ বিলিয়ন ডলার ব্যয় হয়েছে। বিদ্যুৎ ও সার ক্ষেত্রেও ক্রমাগত আমদানির প্রয়োজনীয়তা বাড়ছে। তবে, গত দুই বছরে ডলার সঙ্কটের কারণে এসব ব্যয় সময়মতো মেটানো সম্ভব হয়নি।

ফলে আদানি, কাফকো, শেভরনসহ বেশ কিছু বিদেশি প্রতিষ্ঠানের কাছে বাংলাদেশের দেনা দাঁড়ায় ২.৫ বিলিয়ন ডলারের ওপরে। যদিও গত দুই মাসে বাংলাদেশ ব্যাংক কোনো রিজার্ভ ব্যবহার না করেই দেড় বিলিয়ন ডলার পরিশোধ করতে সক্ষম হয়েছে। বাকি অংশও আগামী দুই মাসের মধ্যে মেটানো হবে বলে গভর্নর আশা প্রকাশ করেছেন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর বলেছেন, সরকারের প্রায় ২.৫ বিলিয়ন ডলারের দেনা ছিল, যার বড় অংশ ইতিমধ্যে পরিশোধ করা হয়েছে এবং বাকি অংশও খুব শীঘ্রই পরিশোধ করা হবে। এর ফলে দেশের আর্থিক ব্যবস্থায় চাপ কমে আসবে এবং বাজারে লিকুইডিটি আরও বাড়বে। এছাড়া, আরও প্রায় ১০ বিলিয়ন ডলার ঋণ সংগ্রহের প্রস্তুতি চলছে।

তবে, ১০৩ বিলিয়ন ডলারের বৈদেশিক ঋণ পরিশোধের ক্রমাগত চাপ গভর্নরকে কিছুটা উদ্বিগ্ন করেছে। তিনি বলেন, সামগ্রিক পরিস্থিতি সামাল দিতে আগামী এক বছর ধৈর্য্য ধরে চলতে হবে। এখন বিনিয়োগ কম হবে এবং প্রবৃদ্ধিও সামান্য হ্রাস পেতে পারে। বিশ্বব্যাংক থেকে অনুমান করা হচ্ছে, প্রবৃদ্ধি হয়ত ৪ শতাংশে নেমে আসতে পারে, তবে এটি একটি অস্থায়ী পরিস্থিতি।

গভর্নর শ্রম অসন্তোষের কারণে রপ্তানির সম্ভাব্য সংকট নিয়েও সতর্ক করেছেন।

সর্বশেষ সংবাদ
- Advertisement -spot_img
আরও নিউজ