বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতে কিছু প্রভাবশালী গ্রাহক আদালতের মাধ্যমে স্থগিতাদেশ নিয়ে প্রায় ৭৬ হাজার কোটি টাকা আটকে রেখেছেন। ব্যাংক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই ঋণের বেশিরভাগই খেলাপি হয়ে পড়েছে। তবে আদালতের স্টে অর্ডারের কারণে ঋণগুলো নিষ্পত্তি হচ্ছে না, যা ব্যাংকের অর্থনৈতিক স্বাস্থ্যকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।
বর্তমানে, ঝুঁকিপূর্ণ ঋণের সাথে স্টে অর্ডারের যোগফলে দেশের মোট ঋণের এক-তৃতীয়াংশেরও বেশি সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে, যা একটি গণতান্ত্রিক দেশের অর্থনীতির জন্য উদ্বেগের বিষয়।
বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন কর্মকর্তার মতে, দেশের বিচার ব্যবস্থার ধীর গতির সুযোগ নিয়ে অনেক ব্যবসায়ী স্টে অর্ডার গ্রহণ করছেন, যা ঋণ পরিশোধ না করেও দীর্ঘ সময় নিরাপদ থাকার সুযোগ দেয়। এর ফলে ব্যাংকগুলোতে ঋণগ্রহীতাদের স্বল্প বিনিয়োগে দীর্ঘ সময় পাওয়ার প্রবণতা দেখা দিয়েছে।
স্বাধীনতার ৪৭ বছরে দেশের ব্যাংকিং খাত অনেক দূর এগিয়েছে, তবে অনিয়ম ও ঋণ কেলেঙ্কারি দেশের অর্থনীতিকে বিপর্যস্ত করেছে। বিভিন্ন প্রতারণার মাধ্যমে হাজার হাজার কোটি টাকা লুট হয়ে গেছে। অনেকেই ব্যাংকের ঋণ পরিশোধ না করেই গা ঢাকা দিচ্ছে, এবং সংশ্লিষ্ট অপরাধীদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে গড়িমসি করা হচ্ছে। দুর্নীতির অভিযোগ উঠলে প্রাথমিক তদন্ত শুরু হলেও, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই মামলা বছরের পর বছর ধরে ঝুলে থাকে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, অর্থঋণ আদালতে খেলাপি ঋণের মামলার সংখ্যা বাড়ছে। বর্তমানে ৬০টি ব্যাংকের বিরুদ্ধে ২ লাখ ৭৫৯৩টি মামলা রয়েছে, যা প্রায় ২ লাখ ৩৬ হাজার ৪৮৯ কোটি টাকার ঋণ আটকে রেখেছে।
গত বছরের ডিসেম্বরের তুলনায়, মামলার সংখ্যা প্রায় ১ হাজার ৯টি বেড়ে গেছে, এবং আটকে থাকা অর্থের পরিমাণও বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০ হাজার ১৯৭ কোটি টাকায়।
অর্থঋণ আদালতের কার্যক্রম ধীর গতিতে চলছে, যার জন্য আইনগত জটিলতা ও বিচারকের অভাব একটি বড় কারণ। সাবেক চেয়ারম্যান নূরুল আমিন বলেছেন, “অর্থঋণ আদালত কার্যকর হলেও লোকবল ও আদালতের অভাবের কারণে কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। যদি কোনো গ্রাহক উচ্চ আদালতে রিট করেন, তাহলে তাদের একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ জমা দেওয়ার বিধান রাখতে হবে।”
তিনি আরো উল্লেখ করেন, “যদি এসব আটকে থাকা অর্থ ফিরে পাওয়া যায়, তাহলে ব্যাংক খাতের সমস্যা অনেকটাই সমাধান হবে, যা দেশের অর্থনীতির জন্যও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।”
সূত্র: কালের কণ্ঠ


