বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর জানিয়েছেন, দেশে দুর্ভিক্ষের কোনো সম্ভাবনা নেই এবং বাংলাদেশ শ্রীলঙ্কার মতো অবস্থায় নেই। তিনি বলেন, “আমাদের অর্থনীতির অগ্রগতি অব্যাহত আছে, তবে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আরো সময় লাগবে।
যেকোনো অর্থনৈতিক নীতি কার্যকর করলেও সাধারণত মূল্যস্ফীতি কমতে ১২ মাস সময় নেয়, আর আমাদের মাত্র ৪ মাস পেরিয়েছে। আরও ৮ মাস সময় প্রয়োজন।”
সোমবার রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁওয়ে বণিক বার্তা আয়োজিত তৃতীয় বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সম্মেলনে গভর্নর বলেন, দেশের বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নত হচ্ছে এবং আমরা আশা করছি, অদূর ভবিষ্যতে বিনিয়োগ আরও বাড়বে।
বেক্সিমকো গ্রুপের বিষয়ে গভর্নর জানান, কয়েক মাস ধরে তাদের শ্রমিকদের মজুরি দেওয়াতে কিছু সমস্যা হচ্ছিল, যা সরকারিকভাবে সমাধান করা হয়েছে। ব্যাংক অ্যাকাউন্ট বন্ধ না করে, বরং কোম্পানিকে সচল রাখতে রিসিভার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তিনি নিশ্চিত করেছেন, কোনো ব্যাংক বন্ধ হবে না এবং ব্যাংক খাতকে সচল রাখতে তাদের তারল্য সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।
অর্থপাচার নিয়েও গভর্নর কথা বলেন। তিনি উল্লেখ করেন, দেশের বাইরে টাকা পাচারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আন্তর্জাতিক সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও বিশ্ব ব্যাংকের সঙ্গে যোগাযোগ হয়েছে। এছাড়া, ব্যাংকিং খাতকে সারা দেশে ছড়িয়ে দিতে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে এবং গ্রামীণ ব্যাংকিং কার্যক্রম আরও বিস্তৃত হচ্ছে।
গভর্নর বলেন, “কিছু ব্যাংক গ্রাহকদের টাকা দিতে সমস্যায় আছে, তবে নগদ সহায়তার জন্য আমাদের পক্ষ থেকে কোনো টাকা ছাপানো হয়নি। অর্থনীতির স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে এবং বিনিয়োগ আকর্ষণ করতে আমরা সচেষ্ট আছি।”
ব্যাংকিং খাতের সার্বিক চ্যালেঞ্জ নিয়ে গভর্নর আরও জানান, ব্যাংক রেজুলেশন অ্যাক্ট আনার পরিকল্পনা চলছে এবং এটি বাস্তবায়িত হলে খাতটি আরও সুরক্ষিত হবে।


