যুক্তরাষ্ট্রে চীনা পণ্যের ওপর ট্রাম্প প্রশাসন শুল্ক ৬০% পর্যন্ত বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রে চীনা পণ্যের রপ্তানি অনেকটাই বাধাগ্রস্ত হতে পারে। চীন এরই মধ্যে এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় তাদের শিল্পগুলো দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় স্থানান্তরের পরিকল্পনা করছে। এর মধ্যে বাংলাদেশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।
রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) ভাইস চেয়ারম্যান মো. আনোয়ার হোসেন জানিয়েছেন, চীনের পক্ষ থেকে বাংলাদেশের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু হয়েছে। চীন তাদের তৈরি পোশাকসহ বিভিন্ন শিল্প বাংলাদেশে স্থানান্তরের বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করছে। আনোয়ার হোসেন বলেন, “আমরা চীনের আগ্রহগুলো গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করছি।”
অর্থনীতিবিদ ড. সেলিম রায়হান বলেন, “এর আগে ট্রাম্প প্রশাসন চীনা পণ্যের ওপর শুল্ক বাড়িয়েছিল। কিন্তু তখন আমরা সেই সুযোগ নিতে পারিনি। কারণ, আমাদের পর্যাপ্ত প্রস্তুতি ছিল না।” তবে এবার পরিস্থিতি কিছুটা ভিন্ন। তৈরি পোশাক খাতে বাংলাদেশের উন্নয়ন, পরিবেশবান্ধব কারখানা বৃদ্ধি এবং কমপ্লায়েন্স মেনে চলার সংস্কৃতি দেশকে আরও প্রতিযোগিতামূলক করে তুলেছে।
বাংলাদেশে চীনের বিনিয়োগ ধীরে ধীরে বাড়ছে। ২০২০-২১ অর্থবছরে চীন বাংলাদেশে ৪০৮ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করেছিল, যা পরবর্তীতে কিছুটা কমলেও সম্ভাবনা এখনো উজ্জ্বল। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে চীনা পণ্যের শুল্ক গড়ে ২৫%, যেখানে বাংলাদেশি পণ্যের শুল্ক ১৫.৬২%। এর ফলে বাংলাদেশের রপ্তানির সম্ভাবনা বাড়ছে।
বিজিএমইএর প্রশাসক আনোয়ার হোসেন বলেন, “বর্তমানে আমাদের রপ্তানি মূলত কটন-বেজড। কিন্তু বিশ্ববাজারে কৃত্রিম সুতার তৈরি পোশাকের চাহিদা ৭০%। আমরা সেই বাজার ধরার পরিকল্পনা করছি। চীনের কারখানা এখানে স্থানান্তর হলে আমাদের সক্ষমতা আরও বাড়বে।”
বাংলাদেশ-চায়না চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের (বিসিসিসিআই) সভাপতি মোহাম্মদ খোরশেদ আলম বলেন, “চীনারা শুধু পোশাক খাতে নয়, জ্বালানি খাতেও বিনিয়োগ করতে আগ্রহী। বিশেষত কয়লা খনির উন্নয়নে তারা কাজ করতে চায়।”
ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) “কর্পোরেট সাসটেইনেবিলিটি ডিউ ডিলিজেন্স” নির্দেশনা ২০২৬ সালের পরে বাংলাদেশের জন্য কার্যকর হবে। এই নির্দেশনার ফলে শ্রম অধিকার, পরিবেশ এবং নিরাপত্তার মান বাড়ানোর চাহিদা বাড়বে। ড. সেলিম রায়হান বলেন, “আমাদের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ তৈরি করতে হবে। অন্যথায় বিনিয়োগকারীরা অন্য দেশে চলে যাবে।”
ট্রাম্প প্রশাসনের চীনা পণ্যের ওপর শুল্ক বৃদ্ধির সম্ভাবনা বাংলাদেশের জন্য এক বিশাল সুযোগ তৈরি করেছে। তবে এই সুযোগকে কাজে লাগাতে হলে দক্ষ শ্রমশক্তি, উন্নত অবকাঠামো এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। এখনই সময় সঠিক পদক্ষেপ নেওয়ার।


