27.6 C
Dhaka
Saturday, June 13, 2026

ফেসবুকে প্রেম, বিয়ে — দেড় মাস পর জানা গেল নববধূ আসলে একজন পুরুষ!

advertisment
- Advertisement -spot_img

চট্টগ্রামের এক গ্রামে প্রেম, বিয়ে ও অভিনয়ের এক অদ্ভুত ঘটনা ঘিরে ছড়িয়ে পড়েছে চাঞ্চল্য। শুক্রবার (২৫ জুলাই) সন্ধ্যায় জানাজানি হয়, যে সামিয়াকে শান্ত বিয়ে করেছিলেন, তিনি আসলে একজন পুরুষ—মো. শাহিনুর রহমান।

ঘটনার পটভূমি:
স্থানীয় সূত্র জানায়, শাহিনুর রহমান চট্টগ্রামের আমতলা ঈদগাহ বৌবাজার এলাকার বাসিন্দা, পিতার নাম আবুল কাশেম। দীর্ঘদিন তিনি ‘সামিয়া’ ছদ্মনামে নারীর বেশ ধরে ফেসবুকে পরিচিতি গড়ে তোলেন। ফেসবুকের মাধ্যমেই শান্ত নামের এক যুবকের সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

বিয়ে ও দাম্পত্য জীবন:
গত ৭ জুন শাহিনুর ওরফে সামিয়া শান্তর বাড়িতে চলে আসেন। পরে পরিবারের সম্মতিতে ও স্থানীয়দের উপস্থিতিতে মৌলভি ডেকে তাদের বিয়ে সম্পন্ন হয়। জাতীয় পরিচয়পত্র না থাকায় বিয়েটি রেজিস্ট্রি করা হয়নি।

গোপন সত্য উন্মোচন:
বিয়ের পর প্রায় দেড় মাস শান্তর পরিবারের সঙ্গেই ‘নববধূ’ হিসেবে থাকেন সামিয়া। তবে কাছাকাছি আসতে চাইলে সামিয়া বিভিন্ন অজুহাত দিতেন—“আমি অসুস্থ”, “ডাক্তার নিষেধ করেছে” ইত্যাদি। এসব আচরণে শান্ত ও তার পরিবারের সন্দেহ বাড়তে থাকে। অবশেষে শুক্রবার বিকেলে নিশ্চিত হওয়া যায়—‘সামিয়া’ আসলে পুরুষ।

স্থানীয় প্রতিক্রিয়া:
সংবাদটি প্রকাশ্যে আসার পর এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে এবং ঘটনা দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায়।

ভুক্তভোগীদের বক্তব্য:
শান্ত জানান,

“ফেসবুকেই সামিয়ার সঙ্গে পরিচয় ও প্রেম। হঠাৎ সে বাড়িতে এসে উঠলে, পরিবারের সিদ্ধান্তে বিয়েটা হয়ে যায়। কিন্তু বিয়ের পর থেকেই তার আচরণ ছিল রহস্যজনক।”

শান্তর মা মোছা. সোহাগী বেগম বলেন,

“একজন পুরুষ মানুষ আমাদের ঘরে বউ সেজে ছিল—কিন্তু আমরা কিছুই বুঝতে পারিনি। অভিনয় করে আমাদের বিশ্বাস অর্জন করেছিল।”

পরিণতি ও ব্যাখ্যা:
শনিবার (২৬ জুলাই) সকালে পরিবারের পক্ষ থেকে শাহিনুরকে তার নিজ বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।
শাহিনুর বলেন,

“শান্তর সঙ্গে যা করেছি, সেটা আমার ভুল। আমি হরমোনজনিত সমস্যায় ভুগি। নিজেকে মেয়ে ভাবতেই ভালো লাগে।”

সর্বশেষ সংবাদ
- Advertisement -spot_img
আরও নিউজ