27.2 C
Dhaka
Sunday, June 14, 2026

দেশের প্রবীণ আলেম মুফতি আহমদুল্লাহর ইন্তেকাল

advertisment
- Advertisement -spot_img

দেশের প্রবীণ আলেম ও মুহাদ্দিস, চট্টগ্রামের আল-জামিয়া আল-ইসলামিয়া পটিয়া মাদরাসার সদরে মুহতামিম ও শায়খুল হাদিস আল্লামা মুফতি আহমদুল্লাহ ইন্তেকাল করেছেন। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।

রোববার (১৪ সেপ্টেম্বর) সকাল ৬টা ৫৫ মিনিটে চট্টগ্রাম নগরীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮১ বছর। তিনি তিন ছেলে ও চার মেয়ে, অসংখ্য শিষ্য, গুণগ্রাহী ও শুভানুধ্যায়ী রেখে গেছেন। মরহুমের জানাজা আজ রাত ৯টায় পটিয়া মাদরাসা প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হবে।

মুফতি আহমদুল্লাহ দীর্ঘদিন বার্ধক্যজনিত নানা রোগে ভুগছিলেন। সর্বশেষ ব্রেনস্ট্রোক করার পর তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং অবস্থার অবনতি হলে আইসিইউতে রাখা হয়।

আল্লামা মুফতি হাফেজ আহমদুল্লাহ ১৯৪১ সালের ১ মে চট্টগ্রামের পটিয়া থানার নাইখাইন গ্রামের মোজাহেরুল্লাহ মুনশীবাড়ির এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা ছিলেন মাওলানা ঈসা (রহ.) এবং মা ছিলেন দেশের প্রাচীনতম শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জিরি মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা মুহতামিম মাওলানা আহমদ হাসান (রহ.)-এর কন্যা।

মাত্র ১০ বছর বয়সে, ১৯৫১ সালে তিনি জিরি মাদরাসায় পবিত্র কোরআন হেফজ করেন। পরবর্তীতে একই মাদরাসায় দাওরায়ে হাদিস সম্পন্ন করেন এবং প্রতিটি ক্লাসে প্রথম স্থান অর্জন করেন।

১৩৮৪ হিজরি (১৯৬৪ খ্রিস্টাব্দে) তিনি পাকিস্তানের জামিয়া আশরাফিয়া লাহোরে পুনরায় দাওরায়ে হাদিস সম্পন্ন করেন। সেখানে তিনি বিশ্বখ্যাত মুফাসসির ও সিরাতগবেষক মাওলানা ইদরিস কান্ধলভি (রহ.) ও মাওলানা রসুল খান (রহ.)-এর সান্নিধ্য লাভ করেন। পরে মুলতানের খাইরুল মাদারিসে মাওলানা মুহাম্মদ শরিফ কাশ্মীরির কাছে যুক্তিবিদ্যা, দর্শন ও কালাম অধ্যয়ন করেন।

১৯৬৭ সালে তিনি দারুল উলুম করাচির ইফতা বিভাগে ভর্তি হন এবং পাকিস্তানের মুফতিয়ে আজম আল্লামা মুহাম্মদ শফি উসমানি (রহ.)-এর কাছে ফিকহশাস্ত্রে পাণ্ডিত্য অর্জন করেন। ১৯৬৮ সালে দেশে ফিরে জিরি মাদরাসায় শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন এবং সেখানে ২৩ বছর অধ্যাপনা করেন। পরবর্তীতে শায়খুল হাদিস হিসেবে সহিহ বুখারির পাঠদান শুরু করেন।

১৯৯১ সালে মাওলানা হাজি মুহাম্মদ ইউনুস (রহ.)-এর অনুরোধে তিনি পটিয়া মাদরাসায় যোগ দেন। সেখানে দীর্ঘ ৩০ বছর সিনিয়র মুহাদ্দিস ও মুফতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০২২ সালে তিনি প্রতিষ্ঠানটির শায়খুল হাদিস ও প্রধান মুফতি নিযুক্ত হন।

মুফতি আহমদুল্লাহ আধ্যাত্মিক দীক্ষা নেন প্রথমে মুফতি মুহাম্মদ শফি (রহ.)-এর কাছে। পরবর্তীতে হাফেজ্জি হুজুর (রহ.)-এর কাছে বায়াত হন এবং ১৯৮১ সালে তাসাউফের ইজাজত ও খেলাফত লাভ করেন।

তার উল্লেখযোগ্য রচনার মধ্যে রয়েছে— ‘দাফউল ইলতিবাস’, ‘মাশায়েখে চাটগাম’ (চট্টগ্রামের মনীষীদের নিয়ে লেখা দুই খণ্ডের গ্রন্থ), ‘আন-নাফহাতুল আহমাদিয়্যাহ ফিল খুতুবাতিল মিম্বারিয়্যাহ’ (আরবি ও বাংলায় জুমার খুতবাসমগ্র), ‘তাজকেরাতুন নুর’, ‘তাসকিনুল খাওয়াতির ফি শরহিল আশবাহি ওয়ান্নাওয়াযির’, ‘ইসলামের দৃষ্টিতে শেয়ারবাজার ও মাল্টিলেভেল মার্কেটিং’, ‘যুগোপযোগী দশ মাসায়েল’, এবং ‘মাজহাব ও মাজহাবের প্রয়োজনীয়তা’

সর্বশেষ সংবাদ
- Advertisement -spot_img
আরও নিউজ